সংবাদদাতা, বাগডোগরা: হাঁটি হাঁটি পা পা করে একেবারে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন হাতির। গভীর রাতে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট ঘুরে, হস্টেল দর্শন করে গেস্ট হাউস চত্বরেই ক্ষণিকের বিশ্রাম। তারপর ফের ক্যাম্পাস ‘ভ্রমণ’। ক্লাস শেষে বিকেলের পর নিঝুম উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত রাত জাগল শুক্রবার। আতঙ্কে এবং উত্সাহে। শনিবার দলছুট সেই হাতিকে জঙ্গলে ফেরাতে কালঘাম ছুটল বনবিভাগের। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও নির্দেশ না মেনে ভিড় করে থাকা জনতাই সেই কাজে বাগড়া দেয়। শুক্রবার রাত ১২টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভরতসিংজোত এলাকায় আসে হাতিটি। নেপালি বিভাগের প্রাচীর ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রামকৃষ্ণ হস্টেল (আরকে) এবং বিদ্যাসাগর হস্টেলের পাশ দিয়ে গিয়ে খাবারের ঠেলা গাড়ি ভেঙে দেয়। সেখান থেকে সোজা এসে ল’ মোড়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারপর নিবেদিতা হস্টেলের সামনে দিয়ে গেস্টহাউসের বাগানে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে ফের অভিযান শুরু। অতঃপর এশিয়ান হাইওয়ের দিকে এগিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সামনের লকগেট পর্যন্ত ভেঙে দেয়। সামনেই এশিয়ান হাইওয়ে-২ থাকলেও হাতিটি ফের ক্যাম্পাসের দিকেই ফিরে আসে। শুরু হয় বিভিন্ন জরুরি বিভাগ ভ্রমণ। ‘ভ্রমণ’ শেষে বিদ্যাসাগর মঞ্চের পাশের জঙ্গলে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে হাতিটি। শনিবার দিনভর সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। ক্যাম্পাস থেকে বের করতে আসে বনদপ্তরের টিম। তিনবার চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও চিত্কার চেঁচামেচির জন্য বেরতে পারেনি সে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরানো কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বলেই জানান এডিএফও রাহুল দেব মুখোপাধ্যায়। বলেন, দলছুট হাতিটি সম্ভবত বালাসন নদী পার করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। শনিবার রাত ৯টা নাগাদ, প্রায় ২১ ঘণ্টা পর হাতিটিকে ক্যাম্পাস থেকে বের করতে সক্ষম হন বনদপ্তরের বাগডোগরা, বামনপখরি, সুকনা সহ সাতটি রেঞ্জের কর্মীরা। -নিজস্ব চিত্র



