Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / এই মুহূর্তে

জঙ্গলে নেশা করে বেহুঁশ যুবকরা, হাতির আক্রমণ থেকে উদ্ধার করছেন বনকর্মীরা

ঝাড়গ্রামের কলাবনি ও বালিভাসার জঙ্গল নেশাড়ুদের ডেরায় পরিণত হয়েছে। দিনরাত জঙ্গলের গভীরে নেশার আসর বসছে। নেশাগ্ৰস্ত যুবকদের জঙ্গলের ভিতর পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

জঙ্গলে নেশা করে বেহুঁশ যুবকরা, হাতির আক্রমণ থেকে উদ্ধার করছেন বনকর্মীরা
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের কলাবনি ও বালিভাসার জঙ্গল নেশাড়ুদের ডেরায় পরিণত হয়েছে। দিনরাত জঙ্গলের গভীরে নেশার আসর বসছে। নেশাগ্ৰস্ত যুবকদের জঙ্গলের ভিতর পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে বন্য হাতির পাল জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের স্কোয়াড ট্রেকার গাড়ি নেশাগ্ৰস্ত যুবকদের উদ্ধারে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিট অফিসে উদ্ধার করা যুবকদের এনে মাদক বিরোধী সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও উমর ইমাম এদিন বলেন, বালিভাসা ও কলাবনি জঙ্গল থেকে মাঝে মধ্যেই নেশাগ্ৰস্ত যুবকদের উদ্ধার করা হচ্ছে। নেশা করার জন্য জঙ্গল এলাকাকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যুবকদের উদ্ধার করে বিট অফিসে আনা হচ্ছে। জঙ্গলের বিপদ ও মাদক বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে। জঙ্গল থেকে হাতির পাল গ্ৰামে ঢুকছে। অন্যদিকে বেপরোয়া কিছু যুবক জঙ্গলে বসে নেশা করছেন। বনবিভাগের কর্তাদের কাছে এটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। হাতির হানায় একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে। জেলার মানুষ আতঙ্কে  দিন কাটাচ্ছেন। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামের বাসিন্দারা বনপথ এড়িয়ে চলছেন। সন্ধ্যের পর জঙ্গল সংলগ্ন হাতির করিডর সংলগ্ন সড়কপথে যান চলাচল কমে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও জঙ্গলে দিনরাত নেশার আসর বসছে, চলছে হই-হুল্লোড়। বনবিভাগের কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে নেশাগ্ৰস্ত যুবকদের জঙ্গলের ভিতর থেকে উদ্ধার করে আনছেন। বিট অফিসে তাঁদের নিয়ে আসা হচ্ছে। সুস্থ হলে যুবকদের সচেতন করা হচ্ছে। জেলার বনকর্তাদের বক্তব্য, স্থানীয় মানুষের চোখ এড়াতেই কলাবনি ও বালিভাসার জঙ্গলকে নেশা করার জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে। পুলিস জঙ্গলে এলে লুকিয়ে পড়ার সুযোগও রয়েছে। তাই তাঁরা  নিজেদের বিপদের মুখে ফেলছেন। হাতির বিপদ নিয়ে খেয়ালই করছেন না। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের প্রাক্তন কর্তা সমীর মজুমদার বলেন, ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের কলাবনি ও বালিভাসার জঙ্গল সংরক্ষিত বন, রিজার্ভ ফরেস্ট নয়। বনের কোনও ক্ষতি না হলে বন বিভাগ আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে না। নেশাড়ুরা পুরোমাত্রায় তার সুযোগ নিচ্ছেন। বন সংক্রান্ত আইন দিয়ে এই সমস্যা মিটবে না। বনবিভাগ সঠিকভাবেই সচেতনতার উপর জোর দিচ্ছে। শহরের পুরাতন ঝাড়গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, শহর লাগোয়া জঙ্গলে সন্ধ্যার পর থেকেই হই হুল্লোড় চিৎকার ভেসে আসে। জঙ্গল পথে নেশাগ্ৰস্তদের হামেশাই পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাদক সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সার্বিক সচেতনতা গড়ে না তুললে এই সমস্যা মিটবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ