শ্রীনগর: তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার, মে মাসে জঙ্গি হামলা সম্পর্কিত ঘটনায় একটিও মৃত্যু হয়নি জম্মু ও কাশ্মীরে। সাউথ এশিয়া টেরিরিজম পোর্টালের (এসএটিপি) এই তথ্য ঘিরে আশার আলো দেখছে সব মহলই। গত কয়েক বছরে ভূস্বর্গের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে প্রবল তুষারপাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া গিরিখাতগুলি মে মাস থেকে চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠে। এই পথ ধরেই লাইন অব কন্ট্রোল ও আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে প্রবেশ করে অনুপ্রবেশকারীরা। ফলে মে মাসে কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেত। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানের কারণেই এই সাফল্য মিলেছে।
২০০০ সালের মে মাসে জঙ্গি হানার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৮৮ জনের। পরের বছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৩০০। ২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গি কার্যকলাপে মৃত্যু হয়েছিল যথাক্রমে ২৪১, ১৯৫ ও ১৮৮ জনের। সেই পরিসংখ্যানই ২০২৪ সালে নেমে আসে মাত্র সাতজনে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১৪ হলেও, চলতি বছরে একটিও মৃত্যু হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি শিবিরে নাম লেখানোর প্রবণতা তলানিতে এসেছে। একইসঙ্গে কমেছে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের ঘটনাও। একের পর এক জঙ্গি নেতাকে খতম করেছে বাহিনী। জঙ্গিদের সাপোর্ট সিস্টেম সহ গোটা ওভার গ্রাউন্ড ওয়াকার্স (ওজিডব্লু) নেটওয়ার্ককেই ধ্বংস করা হয়েছে।’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন সন্ত্রাসবাদী, ১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বাকি একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, রবিবারই সীমান্ত অনুপ্রবেশের অভিযোগে জিশান মীর নামে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরের যুবতী ইরুম বানোর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। সেই কারণেই সীমান্ত পেরিয়ে এপারে এসেছিল ওই যুবক।