সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর ও বেনাচিতি সহ শহরের প্রতিটি বাজারের ফুটপাত দখল করে ফের হকারদের রমরমা ব্যবসা শুরু হয়েছে। ঘিঞ্জি বাজারের প্রধান রাস্তার ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ফের বাজারগুলিতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তার সঙ্গে টোটোর দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে ফুটপাত দখলমুক্ত করে যানজট থেকে পথচারীদের রেহাই দিতে হবে। পুরসভা ও চেম্বার অব কমার্সের দাবি, অবৈধ দখলদারদের ফুটপাত দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা ফুটপাত মুক্ত না করলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বেনাচিতি ও স্টেশন বাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এছাড়াও মামড়াবাজার, আশিস মার্কেট ও চণ্ডীদাস বাজারও বেশ ঘিঞ্জি এলাকায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি বাজারে ফুটপাত অবৈভাবে দখল করেছে হকাররা। ফলে বাজারে আসা মানুষজন ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন না। বাইক পার্কিং করা হচ্ছে মূল রাস্তার উপর। ফলে প্রধান রাস্তাগুলি সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। তার সঙ্গে টোটোর দৌরাত্ম্যে নাজেহাল শহরবাসী। গতবছর মুখ্যমন্ত্রী যানজট সমস্যার সমাধানে অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই মতো রাজ্যজুড়ে অবৈভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখলদারি সরাতে জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজার সহ প্রতিটি বাজারের ফুটপাত মুক্ত করা হয় গতবছর জুন-জুলাই মাসে। অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিটি বাজারে যানজটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অভিযোগ, ঘটনার কিছুদিন পর থেকেই আবার একই পরিস্থিতি হয়। ধীর গতিতে ফের ফুটপাত দখল করা হয়। শুরু হয় ফের যানজট ও ভোগান্তি।স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব গোপ ও অনিল রানা বলেন, বেনাচিতি বাজারে চার কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে বাজার। আর ওই বাজারের স্টিল মার্কেট থেকে ভিড়িঙ্গি মোড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক যেতে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে গিয়েছে। টোটো ট্রেনের বগির মত সারি সারি দিয়ে দৌড়াচ্ছে। শহরের প্রতিটি বাজারের একই পরিস্থিতি। আমাদের দাবি প্রশাসন যানজট মুক্ত করতে পদক্ষেপ করুক।দুর্গাপুর চেম্বার অব কমার্সের অনুরুদ্ধ শ্যাম বলেন, পথচারীদের সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগ আসছে। যানজটের ভোগান্তি মানুষ নিতে পারছে না। আমরা ফুটপাত দখলকারীদের জানিয়েছি, সরকারি জমি ছেড়ে দিতে। টোটো সংগঠনকে টোটো নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। এরপরে অন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুরসভার চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা প্রতিটি বাজারে মাইকিং করে ফুটপাত দখলদারদের সতর্ক করছি। এরপরে অন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।