স্বপ্নাদেশ পেয়ে মুসলিমের ঘরের মাটি খুঁড়ে মিলেছিল মা দুর্গার কষ্টিপাথরের মূর্তি, বাগবাজারে হালদার বাড়ির পুজো ৪৫৫ বছরে
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: উত্তর কলকাতার বাগবাজারে কালীপ্রসাদ চক্রবর্তী স্ট্রিটে হালদার বাড়ির দুর্গাপুজো এবার পড়ল ৪৫৫ বছরে পড়ল। এই বাড়ির প্রতিমা মাটি দিয়ে তৈরি নয়। দুর্গামূর্তিটি কষ্টিপাথরের। তাই প্রতিমা বিসর্জনের প্রয়োজন হয় না। কথিত আছে, স্বপ্নাদেশে দেবী বলেছিলেন এই কষ্টিপাথরের মূর্তির কথা। জায়গাও বলে দিয়েছিলেন তিনি। সেই মতো ওড়িশার বালেশ্বরে গিয়ে এক মুসলিম মৎস্যজীবীর ঘরের মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায় এই দেবীমূর্তি। এই বাড়ির সেবায়েত দেবাশিস হালদার বলেন, প্রায় ৩০ কেজির ওজনের এই দেবীমূর্তির উচ্চতা প্রায় দু’ফুট। মূর্তিতে রয়েছে প্রাচীন শিল্পকলার নানা স্থাপত্যের ছাপ। দশভূজা এখানে পদ্মের আসনে দাঁড়িয়ে মহিষাসুর নিধনে ব্রতী। দেবীর মাথার উপরে রয়েছে মহাকাল। মূর্তির দু’পাশে দুই দেবদূত। নীচে অবস্থান করছেন জয়া‑বিজয়া। মায়ের বাঁ পা রয়েছে মহিষের পিঠে। আর ডান পা সিংহের পিঠে। দুর্গাপুজোর সময় এই কষ্টি পাথরের মূর্তি ঘটা করে পুজো হলেও বছরের আর পাঁচটা দিন মায়ের মন্দিরে নিত্য আচার মেনেই পুজো হয়। এই পুজোর বিশেষত্ব হল, মা মন্দিরে সারা বছর থাকেন পশ্চিমমুখী। তবে মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত মা দক্ষিণমুখী হয়ে পুজো পান।

Advertisement

আগে এই পুজোকে ঘিরে ভিয়েন বসত বাড়িতে। তৈরি হত নানা ধরনের মিষ্টি, নোনতা। সেসব মাকে নিবেদন করা হতে। এখন আর ভিয়েনের যুগ নেই। দোকানের মিষ্টি দিয়েই ভোগ দেওয়া হয় মাকে। বাড়ির মহিলারাই তৈরি করেন নারকেলের নাড়ু। আগে পুজোর ক’দিন প্রতি সন্ধ্যায় বাড়িতে গান‑বাজনা সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। এখনও হয়, তবে শুধু নবমীর রাতে। হালদার বাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরোপুরি বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। মাকে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় খিচুড়ি, নানা ধরনের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস। থাকে নানা মিষ্টি। রাতে মাকে দেওয়া হয় ঘিয়ে ভাজা লুচি ও একাধিক পদ। নবমীর দিন নিবেদন করা হয় পোলাও। এখানে সন্ধিপুজোয় নানা ধরনের ফল বলি দেওয়া হয়। দেবাশিসবাবু বলেন, ‘আগে মাকে আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়া হত। এখন আর তা হয় না। কলকাতায় যে সব প্রাচীন বাড়ির পুজো আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল হালদার বাড়ির পুজো।  হালদার বাড়ির মাতৃপ্রতিমা। -ফাইল চিত্র