


সাগর রজক, মানিকচক: প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই মানিকচকে প্রচারে ঝড় তুললেন বিজেপি ও বামপ্রার্থী। একে অপরকে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না তাঁরা। সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি সিনহার দাবি, বিজেপির প্রার্থী দলবদলু। ২০১৮ সালে ভোট লুটের নায়ক। অন্যদিকে, বিজেপির গৌরচন্দ্র মণ্ডলের মন্তব্য, বামেরা শূন্যতেই থাকবে। তাদের কোনো অস্তিত্বই নেই। তৃণমূলের দুর্নীতিকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নামব আমরা। আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্যের শাসক দল।
হাতে মাত্র একমাস সময়। এর মধ্যেই মানিকচক বিধানসভার প্রায় ২৭২টি বুথে প্রচার চালাতে হবে প্রার্থীদের। তাই একচুল মাটি ছাড়তে নারাজ সব দলই। মঙ্গলবার সকালে দেবজ্যোতি ভূতনির শংকরটোলা গ্রামে গিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালান। মূলত এলাকার মূল সমস্যা গঙ্গা ভাঙন, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কিষানজাতির শংসাপত্র এবং তৃণমূলের দুর্নীতির বিষয়গুলি তুলে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি,গৌরচন্দ্রকে দলবদলু ও ভোট লুটের নায়ক বলে কটাক্ষ করেন দেবজ্যোতি। বলেন, মানিকচকের বিজেপি প্রার্থী প্রথমে কংগ্রেস, তারপর তৃণমূল এবং বর্তমানে বিজেপিতে রয়েছেন। আগামী দিনে অন্য দলেও যোগ দিতে পারেন। তিনি প্রকৃত অর্থেই দলবদলু। পাশাপাশি, তিনি তৃণমূলে থাকাকালীন ২০১৮ সালে ভোট লুটের নায়ক ছিলেন। মানিকচকের মানুষ তাকে দু’বার ছুঁড়ে ফেলেছে, এবার হারের হ্যাটিট্রিক করাবে।
গৌরচন্দ্র এদিন মথুরাপুর চৌরঙ্গী মোট সংলগ্ন এলাকায় নিজের নামে দেওয়াল লিখন করে প্রচার চালান। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মানিকচক বিধানসভার কর্মী পবিত্র দাস, মানিকচক মণ্ডল বিজেপির সভাপতি সুভাষ যাদব সহ অন্যরা। এদিন প্রচারে গিয়ে বামপ্রার্থীকে চড়া সুরে আক্রমণ করেছেন গৌরচন্দ্র। দেবজ্যোতিকে উড়ন্ত পাখি বলে কটাক্ষ করে মন্তব্য, বামেদের পাশে লোক নেই। দু’একজনকে নিয়ে ভোট প্রচার চালাচ্ছে। তাই আমার বিরুদ্ধে উল্টোপাল্টা বলছে। এমনকি বাম প্রার্থীর সঙ্গে থাকা লোকেরাও বিজেপিকে ভোট দেবেন। তৃণমূলের দুর্নীতি আমাদের প্রচারের অস্ত্র। এই বিধানসভায় আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এবার সাধারণ মানুষ পরিবর্তন আনবেন, তা নিশ্চিত করে ফেলেছেন। সরকার পরিবর্তন সময়ের অপেক্ষা।