


সংবাদদাতা, বহরমপুর: সরস্বতী পুজোয় ফুল ও ফলের বাজার এবার চড়া। গত দু’দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার বাজারে প্রতিটি ফলের দাম এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা বেড়েছে। ফলের দাম নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সেভাবে আপত্তি না থাকলেও ফুলের বাজারে গিয়েই সবার মুখ ব্যাজার হয়েছে। দু’দিন আগে ফুলের যা দাম ছিল এদিন তা দ্বিগুণ দরে বিক্রি হয়েছে। সরস্বতী পুজোয় শীতলা ষষ্ঠী উপলক্ষ্যে অনেক পরিবারে গোটা সিদ্ধ হয়। সাদা বেগুন ও সাদা শিম বহরমপুরের বিভিন্ন সব্জি বাজারে এদিন সেঞ্চুরি হাঁকায়।
প্রতিমাশিল্পীদের দাবি, সরস্বতী পুজোয় সবথেকে বেশি বায়না আসে। পাড়ায়-পাড়ায়, ক্লাবে, স্কুল-কলেজ সহ অধিকাংশ বাড়িতেই বিদ্যার দেবীর আরাধনা হয়। দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে একদিন আগে বুধবারে বাজার সেরেছেন। কিন্তু ওইদিন বাজার করেও স্বস্তি মেলেনি। মঙ্গলবার পর্যন্ত আপেল ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার সেই আপেল ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বেদানা ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ২২০ টাকা। তরমুজ ৫০টাকা, শাঁকালু ৬০টাকা, আঙুর ১৫০-২০০টাকা, পেয়ারা ৪০টাকা, নাসপাতি ২৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে অসময়ে আনারস ৬০টাকায় মিলেছে। তুলনায় ছোট সাইজের ডাব বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। বহরমপুরে কান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফল বিক্রেতা শ্যামল ঘোষ বলেন, কলা, কমলালেবু ছাড়া এই সময় ফলের আমদানি যথেষ্ট কম। চাহিদা বেশি। দাম বৃদ্ধির এটাও একটা কারণ হতে পারে।
এদিন ফুলের বাজারে গিয়েই উদ্যোক্তারা ধাক্কা খেয়েছেন। বাগদেবীর আরাধনায় পলাশ ফুল, আমের মুকুল, যবের শিষ অন্যতম। পলাশের দু’টি কুঁড়ি ২৫টাকায় বিক্রি হয়। পলাশ, যব, আমের মুকুল একত্রে দাম ৫০টাকা। দু’দিন আগে বহরমপুরে গাঁদার চেন ১৫-২০টাকায় বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই গাঁদার চেন পুজো উদ্যোক্তাদের ৩০-৩৫টাকায় কিনতে হয়েছে। রজনীগন্ধার মালা বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকায়। ফুল বিক্রেতা সতন ঘোষ বলেন, এইসময় ফুলের উৎপাদন খুবই কম। চাহিদা অনুযায়ী এবার ফুলের দাম সেভাবে বাড়েনি। ক্লাবের পুজোর বাজার করতে এসেছিলেন অবনী সিংহ। অবনীবাবু বলেন, সরস্বতী পুজোর ফলের দাম একটু চড়া থাকে। তবে এবার ফুলের বাজার অনেকটা চড়া। যা দরকার তারচেয়ে কিছুটা কম কিনলাম। আর এক ক্রেতা বলেন, এবার ফুলকপির দাম অনেকটা বেড়েছে। বাকি সব্জির দাম গত কয়েকদিনের মতোই রয়েছে।
সরস্বতী পুজোয় বহু পরিবারে গোটা সিদ্ধ পার্বণ হয়। বিভিন্ন রকমের কলাই, কুলের সঙ্গে সাদা বেগুন, সাদা শিম সিদ্ধ করে ষষ্ঠীপুজো দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেকারণে বেগুন আর শিম ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে এদিন।