


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: দুই বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলা হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। যা তাদের প্রত্যাশার বাইরে। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিন জেলাকে কোনওভাবে বঞ্চিত করছে না গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, কমপক্ষে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পেতে পারেন তিন জেলার পাঁচ বিধায়ক। জেলাগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত একরকম চূড়ান্ত। এদিকে, নতুন সরকার মন্ত্রিসভা গঠনে কলকাতা, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে একটা সামঞ্জস্য রাখতে চাইছেন অমিত শাহ, শমীক ভট্টাচার্যরা। সেক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে জেলাগুলিকে। কারণ, বাংলার প্রায় প্রতিটি জেলায় অকল্পনীয় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে দু’জনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সন্দেশখালির ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। অন্যজন, এবারই প্রথমবার বিধায়ক হয়েছেন। তৃণমূলের এক হেভিওয়েটকে পরাজিত করেছেন। তাঁর সঙ্গেও দিল্লির নেতাদের নিবিড় যোগাযোগ অনেক আগে থেকেই। তিনি দলের একাধিক পদে ছিলেন। পশ্চিম বর্ধমানেরও দু’জন বিধায়ক নয়া মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পারেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। অন্যজন, ২০২১ সালে অল্প ভোটের মার্জিনে পরাজিত হয়েছিলেন। ভোটে হেরে যাওয়ার পরও তিনি ময়দান ছাড়েননি। একদা তিনি তৃণমূলের দাপুটে নেতা ছিলেন। একাধিক পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন।
বীরভূমেরও এক বিজয়ী বিধায়ক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে চলেছেন। তিনি রাজনীতিতে নেমেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দলের একধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন। মুর্শিদাবাদের এক বিজেপি প্রার্থী সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে জিতে চমক দিয়েছেন। তিনি জেলার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মহারাজের ঘনিষ্ঠ। রাজ্যের এক হেভিওয়েট নেতার সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনিও মন্ত্রীত্ব পেতে চলেছেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের কে, কোন দপ্তরের মন্ত্রী পাবেন, তা প্রাথমিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরের দিনই ঠিক হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের একাধিক এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। তবে, অমিত শাহের পরিষদীয় দলের বৈঠকের পরই তালিকায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়বে। দলের এক নেতা বলেন, মন্ত্রিসভায় যথেষ্ট চমক থাকবে। আগের সরকারগুলিতে কলকাতা ও শহরতলির জনপ্রতিনিধিরাই সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পেতেন। এবার সেটা হবে না। জেলার বিধায়কদেরকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। কাজের পারফরমেন্স থেকে পরবর্তীকালে মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। ফলে, যাঁরা দায়িত্ব পাবেন তাঁদের সকলকেই কাজ করতে হবে। দক্ষ এবং যোগ্য ব্যক্তিরাই মিন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবেন। এটা দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত।
বিজেপি সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভাল ফল হবে বলে আগেই নেতৃত্ব বুঝেছিল। কিন্তু দুই বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদের ফল দেখে নেতৃত্বও চমকে গিয়েছে। সেই কারণে এই জেলাগুলিকেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কোনওভাবেই বঞ্চিত করতে চাইছে না।