নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোমরের ঠিক নীচে মোটা স্ট্র্যাপ জড়ানো। ওয়ার্ম-আপের পর তাতে বারবার স্প্রে দিলেন মনবীর সিং। দৌড়বার সময় জড়তা স্পষ্ট। এমনকী, শনিবার পুরো অনুশীলন না করেই ড্রেসিং-রুমে ফিরলেন মোহন বাগানের পাঞ্জাবি ফুটবলার। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্বের সেমি-ফাইনালেও অনিশ্চিত মনবীর। জাতীয় দলের শিবিরে চোট পেয়ে ছিটকে যান তিনি। মনবীরের কন্ডিশন দেখে বিব্রত টিম-ম্যানেজমেন্ট। আসলে দেশের সেরা দুই উইং হাফ মনবীর ও লিস্টন। যে কোনও রক্ষণে ফাটল ধরাতে দক্ষ। জুটি ভাঙলে প্ল্যান বি’র উপর ভরসা করতে হবে হোসে মোলিনাকে। সামান্য ঝুঁকি নিতেও তিনি নারাজ। রবিবার আরও একদফা দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে মনবীরকে নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও আপুইয়া অনেকটাই ফিট। মিজো মিডিও প্র্যাকটিসে বেশ চনমনে। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে প্রথম লেগে ডিফেন্সিভ ব্লকারের পজিশনে দীপক টাংরিকে খেলানো হয়। বক্স টু বক্স মিডিও হিসাবে অপারেট করেন অনিরুদ্ধ থাপা। আপুইয়া ফিরলে কম্বিনেশনে বদল আসবে। আসলে জামশেদপুরের মাঝমাঠের ব্যালান্স জাভি হার্নান্ডেজের উপর নির্ভরশীল। স্প্যানিশ মিডিও ক্রমাগত সুইচ করে খেলাটা তৈরি করেন। মিডল করিডরে জাভিকে রুখতে আপুইয়াকে প্রয়োজন।
আইএসএলের নক-আউটে বরাবরই দাপট দেখিয়েছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। গতবার প্রথম লেগে ওড়িশার কাছে ০-২ ব্যবধানে হারের পর যুবভারতীতে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটান কামিংসরা। এবারও পরিস্থিতি প্রতিকূল। তবে থিঙ্কট্যাঙ্ক ঘাবড়াচ্ছে না। চলতি টুর্নামেন্টে হোম ম্যাচে অপরাজিত দল। চেনা পরিবেশে জামশেদপুরকে গিলে খেতে ছটফট করছে গোটা দল। খালিদ জামিলের রক্ষণের শেপ ভাঙাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। অনেকেই ধরে নিয়েছেন আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ দল সাজাবেন জামশেদপুর কোচ। দ্রুত লক্ষ্যভেদ না হলে রক্ষণে ভিড় বাড়াবে ইস্পাতনগরীর ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। তাই গোল চাপিয়ে দিতে মরিয়া হোসে মোলিনা।
এদিকে, যুবভারতীতে নামার আগে ঘুটি সাজাচ্ছেন খালিদ জামিলও। কার্ড সমস্যায় স্টিফেন এজে ও আশুতোষ মেহতা নেই। তার বদলে সার্বিয়ান স্টপার লাজার সিরকোভিচকে তৈরি করছেন তিনি। মোহন বাগানের প্রাক্তনী প্রতীক চৌধুরীকেও খেলানো হতে পারে। মোহন বাগান দুর্গে ফাটল ধরাতে প্রতি-আক্রমণই ভরসা খালিদের। শনিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছল গোটা দল।



