Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে খালবিলের দেশি মাছ, উদ্বেগ প্রকাশ মৎস্য বিশেষজ্ঞদের

পাঁচ বছর আগেও নদী, নালা, খালবিলে যে মাছগুলি মিলত, এখন সেগুলি দেখাই যায় না।

দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে খালবিলের দেশি মাছ, উদ্বেগ প্রকাশ মৎস্য বিশেষজ্ঞদের
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: পাঁচ বছর আগেও নদী, নালা, খালবিলে যে মাছগুলি মিলত, এখন সেগুলি দেখাই যায় না। মৎস্যদপ্তর সূত্রে খবর, জেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছে অন্তত ১৩ প্রজাতির মাছ। কোথাও কোথাও আবার কৈ, মাগুর, চ্যাং, বেলের মতো পরিচিত মাছও লুপ্তপ্রায়। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ জলের দূষণ। বিশেষ করে বর্ষায় খালবিলে পাট পচানোর ফলে জলে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তার সঙ্গে কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও অন্যান্য রাসায়নিক জলে মিশে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। ফলে মাছের প্রজনন তো ব্যাহত হচ্ছেই, পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক বিচরণক্ষেত্রও।
নদীয়া জেলাজুড়ে ভাগীরথী, জলঙ্গি ও চূর্ণীর মতো নদীর পাশাপাশি রয়েছে ১১০টিরও বেশি ছোটোবড়ো খালবিল। বর্ষায় নদীর জল ঢুকে এই জলাশয়গুলিই হয়ে ওঠে দেশি মাছের প্রজনন ক্ষেত্র। এই সময়েই পাট জাগ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, বহু জায়গায় সরাসরি খালবিলেই পাট পচানো হচ্ছে। এর ফলে জলে জৈব দূষণ বাড়ছে এবং বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন খরচ হচ্ছে। মৎস্যদপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, পাট পচানোর সময় জলে মিশে থাকা জৈব পদার্থের পচন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে মাছের বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত অক্সিজেন জলে থাকে না। মাছ মরে ভেসে ওঠে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃষিজমির রাসায়নিক দূষণ। জেলার বিস্তীর্ণ অংশে ভাগীরথী, জলঙ্গি ও চূর্ণীর পাড় ঘেঁষে চাষ হয়। তেহট্ট, চাপড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার খালবিলেও কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থ পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে জলের অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট সহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্যও বদলাচ্ছে। সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাছের ডিম ও পোনার উপর।
ইতিমধ্যেই জলঙ্গির বিভিন্ন অংশ কার্যত অবরুদ্ধ। অন্যদিকে চূর্ণীর জল কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও মরা মাছ ভেসে ওঠার ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে নদী ও জলাশয়ের দূষণ শুধু মাছের অস্তিত্বকেই নয়, গোটা জলজ বাস্তুতন্ত্রকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মৎস্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়ার জলাশয় থেকে বাইন প্রজাতির তোড়া বাইন, পাকাল বাইন ও গুঁতে বাইন, সরপুঁটি, তিতপুঁটি, বাঘাপুঁটি, পাড় টেংরা, গিটে টেংরা, বেজ টেংরা সহ নানা দেশি মাছ হারিয়ে গিয়েছে। বাওয়ালি, রায়েক বাটা, ভেদা, খলসে, মৌরলা, তেচোখা, চাঁদা সহ আরও কয়েকটি প্রজাতির উপস্থিতিও আগের তুলনায় কমেছে। একসময় যে নদীয়া দেশি মাছের বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত ছিল, দূষণের জেরে সেই বৈচিত্র্যই এখন ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ