নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চাই-ই। প্রয়োজনে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ এই চরম হুমকি দিয়েই আজ, শুক্রবার মুম্বইতে আন্দোলন শুরু করছে ‘ককরোচ’। ইস্তফার পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরুর দাবিও তোলা হচ্ছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘আগে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা। তারপরই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হবে বিক্ষোভ-আন্দোলন।’ আজ, গান্ধীজয়ন্তীতে আন্দোলন শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার ‘ককরোচ’রা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, বিজেপি যতই তাদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুক, কোনো পরিস্থিতিতেই পিছু হটা হবে না। বরং এর শেষ দেখে ছাড়বে ককরোচরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যেভাবে সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছে জেন জি, তাতে আজ চরম অশান্তির আশঙ্কা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে তটস্থ রয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আজ আন্দোলন শুরুর আগে, বৃহস্পতিবার মুম্বই প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। সেখানেও তিনি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিনা যুদ্ধে মোদি সরকারকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না। এসপার, নয় ওসপার। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, অন্যথায় আন্দোলনকারীদের প্রাণত্যাগ। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছিলেন, অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ প্রদর্শন করে গ্রেপ্তার হলে তিনদিন পর্যন্ত জামিন মিলবে না। আজ, শুক্রবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে যে আন্দোলন শুরু করবে ‘ককরোচ’রা, তার অনুমতি বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দেয়নি মহারাষ্ট্র পুলিশ। এই প্রেক্ষিতে ফড়নবিশকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এদিন অভিজিৎ বলেছেন, ‘তিনদিন জেলে রাখুন কিংবা তিন মাস। আন্দোলন কিন্তু হবেই। শিবাজি পার্কেই হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামব না।’
এর আগে নিট কেলেঙ্কারিতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে যে আন্দোলন চালিয়েছিল ‘ককরোচ’রা, সেখানে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উপর চরম ‘দমন-পীড়নে’র অভিযোগ উঠেছিল। এদিন মুম্বইতে দিল্লি পুলিশকে অভিজিতের কটাক্ষ, ‘আশা করি মুম্বই পুলিশ অন্তত দিল্লি পুলিশের তুলনায় জেন জিকে সামলানোর ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হবে।’ ককরোচ জনতা পার্টি স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুক্রবার মুম্বইয়ের পাশাপাশি গোয়া, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলন শুরু হবে। তবে জ্ঞানেশ কুমার তারপরেও পদত্যাগ না করলে অক্টোবর মাসের শেষ থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে শুরু হবে আন্দোলন। কর্মসূচিতে অর্থের জোগান নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে এদিন সমালোচকদের সপাট জবাব দিয়েছেন অভিজিৎ। বলেছেন, ‘আমি ৩০ হাজার টাকার জুতো পরি। স্বীকার করতে আমার লজ্জা নেই। কারণ আমি এই খরচে সক্ষম। আমি যদি বিমানে মুম্বই থেকে আমেরিকা যেতে পারি, তাহলে দিল্লিও যেতে পারব।’