নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পুলিসের নজর এড়িয়ে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড হয়ে সরাসরি বিহার থেকে বীরভূম জেলায় আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে। ভিন রাজ্য থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করার ক্ষেত্রে জেলায় একাধিক লিঙ্কম্যান সক্রিয় রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে মাস্টার মাইন্ডও সক্রিয় রয়েছে। একাধিক সময় আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস প্রাথমিকভাবে এমনই তথ্য জানতে পেরেছে। ঘটনায় জেলা পুলিস মহল যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা লিঙ্কম্যানদের চিহ্নিতকরণ সহ পাকড়াও করার জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। যদিও আগ্নেয়াস্ত্র আমদানির কাজে জড়িত লিঙ্কম্যানের টিকির হদিশ এখনও মেলেনি। এ বিষয়ে জেলা পুলিস সুপার আমন দীপ বলেন, তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একাধিক সময় আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বেশকিছু দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার মূল মাস্টার মাইন্ড ও লিঙ্কম্যানের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ রাতে জেলা পুলিসের একাধিক থানা অভিযান চালিয়ে ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র সহ ১২টি কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছিল। তবে এখানেই শেষ নয়, জানুয়ারি মাসেই সিউড়ি শহর লাগোয়া মিনিস্টিল এলাকা থেকেও উদ্ধার হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র। সদাইপুর থানার পুলিস ফেব্রুয়ারি মাসে আগ্নেয়াস্ত্র সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়াও মার্চ মাসের প্রথম দিকে মাদক পাচারে বাধা পেয়ে পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় রাজনগর থানার পুলিস একটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। অন্যদিকে, সম্প্রতি সিউড়ি শহরের রুটিপাড়া এলাকায় শূন্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিস আগ্নেয়াস্ত্র সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সামগ্রিক ঘটনায় শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছিল জেলায় আগ্নেয়াস্ত্র আসছে কোথা থেকে? এমনকী কে বা কারা এসব আগ্নেয়াস্ত্র আমদানির সঙ্গে জড়িত? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল পুলিস। অবশেষে জেরা করে পুলিস কর্তারা একাধিক তথ্য জানতে পারেন। প্রাথমিকভাবে পুলিস কর্তারা জানতে পেরেছেন বিহারের পাশাপাশি এরাজ্যের গুটি কয়েক জেলা থেকেও বিভিন্ন সময় চোরাপথে আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি করা হচ্ছে। জেলায় বসেই মাস্টার মাইন্ড আগ্নেয়াস্ত্র আমদানির কাজ চালাচ্ছে। তার অঙ্গুলি হেলনে কাজ করছে লিঙ্কম্যানেরা। বিশেষ সূত্রের খবর, এই লিঙ্কম্যানেরা মূলত আগ্নেয়াস্ত্র আমদানির কাজ করে।
একরাতের অভিযানে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পর পুলিসের শীর্ষ কর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, জেলায় আগ্নেয়াস্ত্র মজুত থাকতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই এখনও জেলা জুড়ে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চলছে। যদিও জেলা পুলিস এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও সাফল্য পায়নি। তবে শীর্ষ পুলিস কর্তাদের দাবি, অতি দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্র আমদানির ঘটনায় জড়িত লিঙ্কম্যানও মাস্টার মাইন্ডের খোঁজ পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত থাকলে দ্রুত উদ্ধার করা হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, চোরাপথে ভিন রাজ্য থেকে জেলায় আগ্নেয়াস্ত্র আমদানির নেপথ্যে রহস্য কী?