এবার দমকলেও বডি ক্যাম, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ, কলকাতা: অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় দমকলের কাজ আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই পরিকল্পনায় দমকল কর্মীরা অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার সময় ব্যবহার করবেন বিশেষ বডি ক্যামেরা। আগুন নেভানোর কাজ চলাকালে ওই ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ইউনিটে। সব ঠিকঠাক থাকলে জায়ান্ট স্ক্রিনের এই সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ইউনিট গড়ে তোলা হবে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের দমকলের সদর দপ্তরে। এবিষয়ে আজ মঙ্গলবার দপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও আছে বলে জানিয়েছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। ঘটনাস্থলের যে অংশে পৌঁছে দমকলকর্মীরা কাজ করবেন, এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনার ফলে দমকলের শীর্ষকর্তারা সদর দপ্তর থেকেও সেখানকার পরিস্থিতির উপর টানা নজর রাখতে পারবেন। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তাঁদের পক্ষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে। 

Advertisement

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দমকলের সদর দপ্তরে গড়ে তোলা হবে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে বসানো হবে বড়ো আকারের জায়ান্ট স্ক্রিন। বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে কর্মরত দমকলকর্মীদের ক্যামেরার মাধ্যমে পাওয়া সরাসরি ছবি ওই পর্দাগুলিতে দেখার ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে একই সময়ে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব হবে। এর আগে সাধারণত পুলিশকে বডিক্যাম ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের উৎস, ধোঁয়ার ঘনত্ব, আটকে পড়া মানুষের অবস্থান এবং দমকলকর্মীদের সামনে থাকা বাধা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত বহুতল, ঘিঞ্জি বসতি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কিংবা বড়ো কারখানায় আগুন লাগলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে কর্মরত কর্মীদের ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া সহজ হতে পারে।
সেন্ট্রাল কন্ট্রোল সেন্টার থেকে আধিকারিকরা অভিযানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে অতিরিক্ত কর্মী, দমকলের গাড়ি কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন কৌশিকবাবু।
এই ধরনের প্রযুক্তি চালু হলে অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ের দৃশ্য রেকর্ড করে রাখা সম্ভব হবে। পরবর্তী সময়ে কোনো অভিযানের কার্যকারিতা পর্যালোচনা, সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে সেই ছবি কাজে লাগতে পারে। তবে সরাসরি ছবি দেখার পাশাপাশি সেগুলি সংরক্ষণ করা হবে কি না এবং কত দিন রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শীঘ্রই। 
এবিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে শুধু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোই যথেষ্ট নয়, সেখানে পৌঁছে কীভাবে কাজ এগোচ্ছে, তার উপরও নজর রাখা জরুরি। আবার এই প্রযুক্তির ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মরত দমকলকর্মী কোনো বিপদে পড়লেন কি না তাও জানা সহজ হবে। প্রকল্পটি চলতি অর্থবর্ষেই বাস্তবায়নের ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।