Bartaman Logo
২২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আগুনে ‘তৎপরতা’, বন্ধ ৩৪ হোটেল-গেস্ট হাউস

অতীতে দেখা গিয়েছে, প্রাণঘাতী কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। তখন শুরু হয় তৎপরতা, ধরপাকড়, আইন মেনে চলতে বাধ্য করার হরেক বন্দোবস্ত।

আগুনে ‘তৎপরতা’, বন্ধ ৩৪ হোটেল-গেস্ট হাউস
  • ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অতীতে দেখা গিয়েছে, প্রাণঘাতী কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। তখন শুরু হয় তৎপরতা, ধরপাকড়, আইন মেনে চলতে বাধ্য করার হরেক বন্দোবস্ত। মঙ্গলবার রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পরও যথারীতি শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের বাড়বাড়ন্ত দেখে ইতিমধ্যে শহরের ৩৪টি হোটেল-গেস্ট হাউসে ‘ক্লোজার’ নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে।   

Advertisement

রাসবিহারীতে একটি চারতলা বাড়ির একতলা এবং দোতলার ঘর নিয়ে চলছিল গেস্ট হাউস। অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স বার করা হয়েছে। কিন্তু ফায়ার সেফটি এবং সিকিউরিটির উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। তাছাড়া, ‘রেসিডেন্সিয়াল’ বাড়ির একাংশ যে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা কলকাতা পুরসভাকে জানানোই হয়নি। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গেস্ট হাউসটি। ধর্মতলার একটি হোটেল পরিদর্শনে গিয়ে পুরসভার যৌথ দলের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার মতো অবস্থা। আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই সেখানে ২০টি রুম বিশিষ্ট হোটেল চলছিল রমরমিয়ে। সেখানে একটি ঘরকে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করানো হয়নি। অগ্নি নির্বাপণের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো দূরঅস্ত, একটিও ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার সেখানে নেই বলে অভিযোগ । ফলে ওই হোটেলেও ঝুলেছে ‘ক্লোজার’ নোটিস। এরকম নানা কারণে শহরের ৩৪টি হোটেল, গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লালবাজার এবং স্থানীয় থানাকে নিয়মিত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বন্ধ করে দেওয়া হোটেলের তালিকা। নোটিস পাওয়ার পর ব্যবসা বন্ধ থাকছে কি না, নজরে রাখবে পুলিশ। সমস্ত নিয়মকানুন না মানা পর্যন্ত ব্যবসা পুনরায় চালু করা যাবে না—স্পষ্ট বার্তা প্রশাসনের।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার ১৬টি বরোয় সমীক্ষায় নেমেছে পুরসভা ও পুলিশের যৌথ টিম। পুরসভার বিল্ডিং, লাইসেন্স বিভাগ ছাড়াও লালবাজার, কেএমডিএ, সিইএসসি ও দমকলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন কমিটিতে। শহরের বিভিন্ন ‘অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং’ অর্থাৎ যেখানে একই ভবনে হোটেল-গেস্ট হাউস, রেস্তরাঁ, পানশালাসহ নানা বাণিজ্যিক কাজকর্ম এবং বসবাস চলছে, সেই বাড়িগুলিকে সেফটি অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। ১৫টি প্রশ্ন সংবলিত ‘চেক লিস্ট’ বানিয়ে চলছে সরেজমিনে সমীক্ষা। বাড়ির বয়স কত, বিল্ডিং প্ল্যান আছে কি না, থাকলে প্ল্যানের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ফারাক আছে কি না, মালিকানা বা লিজ স্টেটাস কী, ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে কি না, থাকলেও অগ্নি নির্বাপণ পরিকাঠামো কতটা কার্যকর, ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না—এসবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেখানে ত্রুটি বা গাফিলতি নজরে আসছে, পুর কমিশনারের নির্দেশ মতো সেখানে নোটিস ঝোলানো হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ফিল্ড সার্ভেতে বেরিয়ে পুরকর্তাদের নজরে আসছে নানা ধরনের গাফিলতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। মিলছে না ফায়ার লাইসেন্সও। বড়বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের বিভিন্ন রুফটপ রেস্তরাঁ নিয়ে এই ধরনের অডিট হয়েছিল। কিন্তু তাতে যে কাজের কাজ খুব একটা হয়নি, এখন ফিল্ড সার্ভেতে বেরিয়ে সেটাই টের পাচ্ছেন যৌথ দলের প্রতিনিধিরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ