অমরাবতী: মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে জেলা মহিলা হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন নবজাতকের মৃত্যু। সোমবার হাসপাতালের নিকু ওয়ার্ডে ওই আগুন লাগে। গোটা ওয়ার্ডেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে হাসপাতালের কর্মীরা তড়িঘড়ি ছুটে এসে শিশুদের সরানোর কাজ শুরু করনে। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার করা হয় চিকিৎসাধীন ৩৬ সদ্যোজাতকে।
অমরাবতীর পুলিশ কমিশনার রাকেশ ওলা জানিয়েছেন, সোমবার ভোররাত ৩টে ১৫ নাগাদ নিকুর ভেন্টিলেটর থেকে আগুন ছড়ায়। সাধারণত জন্মের পর যে যে নবজাতকদের শারীরিক সমস্যা থাকে, তাদেরই নিকুতে রেখে চিকিৎসা চলে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজস্ব মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি জখম শিশুদের সবরকম চিকিৎসা সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিবাদে হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন রোগীদের পরিবারের লোকজন। তাঁদের দাবি, নিকু ওয়ার্ডে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এই গাফিলতির জন্যই এতো বড়ো দুর্ঘটনা ঘটে গেল। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, হাসপাতালে নিয়মিত প্রতিবছরই ফায়ার অডিট হয়েছে। তাতে কোনো গাফিলতি ধরা পড়েনি।
মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত শিশুদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। ওই হাসপাতালে নিকুতে তিনটি বিভাগ রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে মোট ৩৯ সদ্যোজাতর চিকিৎসা চলছিল। এই দুর্ঘটনায় হাসপাতালে উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় ত্রুটি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, ভেন্টিলেটর বিস্ফোরণের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী যশোমতি ঠাকুর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবায় উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা নেই। এদিকে অমরাবতীর বিজেপি বিধায়ক রবি রানা জানিয়েছেন, বছর তিনেক আগে ওই হাসপাতালেই এহেন অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। তারপর গোটা ওয়ার্ড নয়া ভবনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এই ঘটনায় চিকিৎসক এবং হাসপাতালকর্মীদের গাফিলতির দিকে আঙুল তুলেছেন। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।