Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সরকারি কর্মীদের ভোটেও হার অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর

সরকার বদল হলেই কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল গেরুয়া শিবির।

সরকারি কর্মীদের ভোটেও হার অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সরকার বদল হলেই কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল গেরুয়া শিবির। তাতেই বাজিমাত পদ্ম শিবিরের! উত্তর শহরতলির স্কুলশিক্ষক থেকে পুলিশ, সব স্তরের সরকারি কর্মী ঢেলে ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তাতেই বিষয়টি স্পষ্ট। সরকারি কর্মীদের ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন বিগত সরকারের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। উত্তর শহরতলির ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রেই সরকারি কর্মীরাই শতাধিক ভোটে এগিয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীকে। এমনকি, কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল জিতলেও পোস্টাল ব্যালটে কয়েকশো ভোটে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। 

Advertisement

দমদম উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটে বিজেপি প্রার্থী সৌরভ শিকদার পেয়েছেন ৬৭৪ ভোট। সেই জায়গায় চন্দ্রিমাদেবী পেয়েছেন মাত্র ৪৪৭ ভোট। সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর পেয়েছেন ৪১১ ভোট। পাশের কেন্দ্র দমদমে ভোটে লড়েন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনিও সিংহভাগ সরকারি কর্মীর ভোট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখানে বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ বক্সি পেয়েছেন ৯২৯টি ভোট আর  ব্রাত্য পেয়েছেন ৬৩৬ ভোট। সিপিএমের ময়ূখ বিশ্বাস পোস্টাল ব্যালটে ২৫৪টি ভোট পেয়েছেন। উত্তর শহরতলির বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে একমাত্র কামারহাটিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মদন মিত্র ৫,৬৪৬ ভোটে জয়লাভ করেছেন। এই কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের হিসাবটা কেমন? জানা যাচ্ছে, পোস্টাল ব্যালটে মোট ৩২৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির অরূপ চৌধুরি ওরফে পুলক পেয়েছেন ৫১০টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী মানস মুখোপাধ্যায়ের ঝুলিতে গিয়েছে ২১৭ ভোট। আর  ‘নোটা’তে পড়েছে ১৪টি ভোট। অর্থাৎ, জয়ী তৃণমূল প্রার্থী পোস্টাল ব্যালটে যত ভোট পেয়েছেন, বিরোধী বিজেপি ও বাম প্রার্থীর এই খাতে প্রাপ্ত ভোট তার দ্বিগুনেরও বেশি। বরানগর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ পোস্টাল ব্যালটে ৭২১টি ভোট পেয়েছেন। তাঁর উলটো দিকে থাকা তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫২৭টি ভোট। এই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র পোস্টাল ব্যালটে ২১২ ভোট পেয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী কল্যাণী চক্রবর্তীও বঞ্চিত হননি। তিনি পেয়েছেন ২৯টি ভোট। আর ‘নোটা’য় ভোট পড়েছে ১৬টি পোস্টাল ব্যালটে। পানিহাটির এবারের ভোটযুদ্ধ প্রথম থেকেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। এখানেও সরকারি কর্মীরা বিজেপি প্রার্থী তথা অভয়ার মা রত্না দেবনাথের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। মোট ১৩৮৫টি পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে রত্নাদেবী পেয়েছেন ৬৯৮টি, তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ ৩৬২টি, সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত ২৭৫টি। ‘নোটা’য় পড়েছে ১৫টি ভোট। খড়দহ বিধানসভায় মোট ১২৯৬টি পোস্টাল ভোট পড়েছে। তার মধ্যে বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী পেয়েছেন ৬৯৯টি। তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত পেয়েছেন ৩৯১টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস পেয়েছেন ১৫২টি ভোট। এই কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটে ‘নোটা’য় পড়েছে ১৭টি ভোট। 
বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ এই দানবীয় সরকারকে সরাতে জোট বেঁধেছিলেন। সরকারি কর্মীরা তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বড়ো সাক্ষী। তাঁরা তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে বিজেপিকেই ভরসা করেছেন। বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তাতে তাঁরা বিশ্বাস রেখেছেন। তাই এই ফলাফল।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ