Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় বেআইনি নির্মাণ রুখতে অবশেষে পদক্ষেপ, ৪২ প্রোমোটারের নামে এফআইআর

হাওড়া শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবশেষে প্রোমোটাররাজ রুখতে এবার সরাসরি কড়া আইনি ব্যবস্থার পথে হাঁটছে হাওড়া পুরসভা। অনুমোদিত প্ল্যান সঠিকভাবে মানা হয়নি অথবা অনুমোদন ছাড়াই বিল্ডিং তৈরি করেছেন, এমন ৪২ জন অসাধু প্রোমোটারকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে হাওড়া সিটি পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করল পুরসভা।

হাওড়ায় বেআইনি নির্মাণ রুখতে অবশেষে পদক্ষেপ, ৪২ প্রোমোটারের নামে এফআইআর
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবশেষে প্রোমোটাররাজ রুখতে এবার সরাসরি কড়া আইনি ব্যবস্থার পথে হাঁটছে হাওড়া পুরসভা। অনুমোদিত প্ল্যান সঠিকভাবে মানা হয়নি অথবা অনুমোদন ছাড়াই বিল্ডিং তৈরি করেছেন, এমন ৪২ জন অসাধু প্রোমোটারকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে হাওড়া সিটি পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করল পুরসভা। এরমধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বেআইনি নির্মাণ আটকাতে লাগাতার প্রক্রিয়া জারি থাকবে বলে জানিয়েছে পুরসভা।

Advertisement

বছর পাঁচেক আগে শেষবার হাওড়া পুরসভা এলাকায় বিল্ডিং সার্ভের কাজ হয়। সেই সময় শহরে প্রায় পাঁচ হাজার বেআইনি নির্মাণ ধরা পড়ে। তারপর আর সমীক্ষা না হলেও সেই সংখ্যা বেড়ে অন্তত দ্বিগুণ হয়েছে বলে পুরসভার দাবি। এতদিন কোনও ক্ষেত্রেই পুরসভা এফআইআর দায়ের করেনি। সেই সুযোগে শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় যেভাবে একের পর এক বেআইনি বিল্ডিং বিপজ্জনকভাবে তৈরি করা হচ্ছে, তা কড়া হাতে দমনের উদ্যোগ নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। তাই এবার শুধু নোটিশ ধরানো কিংবা বিল্ডিংয়ের বেআইনি অংশ ভাঙা নয়, সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে তারা। ইতিমধ্যেই ৪২টি বেআইনি বিল্ডিংয়ের প্রোমোটার, ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুরসভা। এরমধ্যে ২৭টির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। পুরসভা জানিয়েছে, উত্তর হাওড়ায় বেআইনি নির্মাণের সংখ্যা সবথেকে বেশি। শিবপুর, হাওড়া, মালিপাঁচঘড়া ও বি গার্ডেন থানা এলাকায় সবথেকে বেশি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে। পুরসভার যে সমস্ত এলবিএস আধিকারিক এই বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কয়েকজনকে শো-কজ করা হয়েছে। এফআইআরে নাম থাকা প্রোমোটারদের তৈরি কোনও বিল্ডিংয়ের অনুমোদন আগামী দিনে দেবে না পুরসভা।
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনতলার জন্য প্ল্যান অনুমোদন করা হলেও প্রোমোটাররা বিল্ডিংকে পাঁচতলা বা ছ’তলা পর্যন্ত তুলেছে। অনেকে আবার প্ল্যান ছাড়াই বিল্ডিং তুলে দিয়েছেন। কম দামে ফ্ল্যাট কেনার টোপে পা দিয়ে বহু বাসিন্দা সারাজীবনের সঞ্চয় ঢেলে বসবাস করছেন সেগুলিতে। এদিকে আদালতের নির্দেশ মেনে ঘিঞ্জি এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে বহু টাকা খরচ হচ্ছে পুরসভার। কারণ সেখানে জেসিবি, হাইড্রা মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। লোকবল কাজে লাগিয়ে বিল্ডিং ভাঙতে হচ্ছে।
বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের কথায়, অনেক সময় বেআইনি বিল্ডিং ভাঙা হলেও প্রোমোটার দৌরাত্ম্যে কয়েক মাস পর সেখানে ফের নির্মাণ শুরু হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। তাই এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। পুরসভা জানিয়েছে, শহরের অনুমোদিত বিল্ডিংগুলির যাবতীয় বিবরণ পুরসভার ওয়েবসাইটে গত জানুয়ারি মাস থেকে আপলোড করা হচ্ছে। তাই যাঁরা নতুন ফ্ল্যাট কিনছেন, তাঁদের অবশ্যই আগে ওয়েবসাইট দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে পুরসভা।

সম্পর্কিত সংবাদ