Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক লড়াকু চানুর

জাতীয় সঙ্গীত বাজছে। তেরঙ্গা পতাকা সবার উপরে। মীরাবাই চানুর চোখে জল। আবেগে হাউহাউ করে কাঁদছেন ভারতের সোনার মেয়ে। সাধনা, একাগ্রতা, শৃঙ্খলার প্রতিমূর্তি তিনি।

কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক লড়াকু চানুর
  • ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গ্লাসগো: জাতীয় সঙ্গীত বাজছে। তেরঙ্গা পতাকা সবার উপরে। মীরাবাই চানুর চোখে জল। আবেগে হাউহাউ করে কাঁদছেন ভারতের সোনার মেয়ে। সাধনা, একাগ্রতা, শৃঙ্খলার প্রতিমূর্তি তিনি। গোল্ড কোস্ট, বার্মিংহামের পর গ্লাসগো। কমনওয়েলথ গেমেস সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক মণিপুরের ৩১ বছর বয়সি লড়াকু কন্যার। রবিবার দেশকে প্রথম সোনা উপহার দিলেন তারকা ভারোত্তোলক। গেমস রেকর্ড গড়ে সুপার সানডে’তে চানুই সেরার সেরা। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে যাবতীয় ফোকাস ছিল তাঁকে ঘিরে। স্ন্যাচে চানু ৮৫ কেজি ওজন তোলার পরেই গ্যালারিতে উৎসব শুরু। আর তা পূর্ণতা পেল ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি তোলা মাত্র। সবমিলিয়ে ১৯০ কেজি ওজন তুলে গেমস রেকর্ড গড়েন তিনি। চানুর চেয়ে অনেক পিছিয়ে থেকে রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতেছেন নাইজেরিয়ার রুথ আসুকো (১৬৮ কেজি) এবং ইরেনে জানে (১৬৭ কেজি)।

Advertisement

দাপটে সোনা জয়ের পর চানুর ট্রফি ক্যাবিনেট আরও এখন আরও ঝলমলে। ৬ বছর আগে টোকিও ওলিম্পিকসে রুপো জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে কাঁধের চোট মাথাচাড়া দেওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল তাঁর ভবিষ্যৎ। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভারতের সোনার মেয়ে। ফেরার লড়াইয়ে সফল তিনি। গ্লাসগোর পোডিয়াম থেকে নেমে আবেগাপ্লুত চানুর মন্তব্য, ‘ভিকট্রি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনা সত্যিই গর্বের। চোখের জল সামলাতে পারিনি।’ মণিপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম ননপক কাকচিং। জঙ্গলে ঘেরা। চানুর জন্যই আজ সারা দেশের মানচিত্রে তা উজ্জ্বল। তাঁর বেড়ে ওঠার গল্প রুপোলি পর্দাকেও হার মানায়। ছয় ভাইবোনের মধ্যে চানুই কনিষ্ঠ। পরিবারের সবার আদরের হলেও জীবনযুদ্ধ তাঁর মজ্জায়। জঙ্গল থেকে কাঠের বোঝা বয়ে আনত ছোট্ট মীরাবাই। ‘ভার’ বওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। ঘটনাপ্রবাহে শুরু ভারোত্তোলন। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে খুমান লামপক স্টেডিয়ামে যাতায়াতে ট্রাক ড্রাইভারই চানুর ভরসা। তাঁরাই লিফট দিতেন মীরাবাইকে।
দিনটা কেমন যাবে, সকাল দেখেই বোঝা যায়। রবিবার ভারতের শুরুটাও দারুণ হয়েছিল। এদিন ভারোত্তোলনে পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন ভারতের ঋষিকান্ত সিং। আর্মির জওয়ান রেকর্ড গড়ে ছিনিয়ে নেন পদক। স্ম্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ২৬৪ কেজি ওজন তোলেন ঋষি। এর মধ্যে স্ন্যাচে ১২১ কেজি তাঁর ব্যক্তিগত সেরা। দেশকে পদক এনে দিলেন আরও এক ভারোত্তোলক রাজা মুথুপান্ডি। পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে মোট ২৮৬ কেজি ওজন তুলে রুপো জিতলেন তিনি। স্ন্যাচে ১২৬ কেজি’র পর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৬০ কেজি তোলেন তিনি। এই ইভেন্টে সোনা পেলেন মালয়েশিয়ার আজনিল বিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ