Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রথ ঘিরে উৎসবের আবহ শিলিগুড়িতে

শিলিগুড়িতে ৩৭তম বর্ষে ইসকনের রথযাত্রা পালিত হচ্ছে। ভক্তরা মহাপ্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

রথ ঘিরে উৎসবের আবহ শিলিগুড়িতে
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: জগন্নাথদেবের রথযাত্রা দেখতে সবার পক্ষে পুরী বা মায়াপুর যাওয়া সম্ভব হয় না। সেই আক্ষেপ অনেকটাই দূর করে শিলিগুড়িতে ইসকনের রথযাত্রা। প্রতিবছরই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জগন্নাথদেবের রথকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও, বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ইসকন মন্দির এবং শক্তিগড়ের ঐতিহ্যবাহী কেশব গোস্বামী গৌড়ীয় মঠের রথযাত্রা।

Advertisement

শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাঁকজমকের সঙ্গে রথযাত্রা পালিত হয়ে আসছে। এবার ইসকনের রথযাত্রা ৩৭তম বর্ষে পদার্পণ করছে।  বিভিন্ন জেলা থেকেও অসংখ্য ভক্ত এই রথযাত্রায় অংশ নেন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলেই এখানে রথযাত্রার প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়।
মন্দিরের জনসংযোগ আধিকারিক নামকৃষ্ণ দাস জানান, রথযাত্রার পর জগন্নাথদেব সাতদিন ‘মাসির বাড়ি’ বা গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেন। এই সময় প্রতিদিন ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয়। নানা ধরনের মিষ্টি, গজা, পায়েস, ভাজা, পকোরা, পনির, বিভিন্ন সবজির পদ সহ নানা রকমের ভোগ পর্যায়ক্রমে নিবেদন করা হয় এবং সেই মহাপ্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয় স্নানযাত্রা দিয়ে। দুধ, দই, ঘি, মধু, বিভিন্ন ফলের রস এবং সহস্র তীর্থের পবিত্র জল দিয়ে জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাকে মহাস্নান করানো হয়। এরপর শুরু হয় অনবসর লীলা। প্রায় ১৫ দিন মন্দিরের মূল দর্শন বন্ধ থাকে এবং এই সময় জগন্নাথদেবকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে বিশ্বাস। মাসির বাড়িতে সাতদিন ধরে বিশেষ পুজো, মহাআরতি, জগন্নাথের লীলাকথা, ধর্মীয় আলোচনা, নাট্যরূপে লীলা পরিবেশন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলে ভক্তরা শিলিগুড়িতেই পুরীর রথযাত্রার আবহ অনুভব করতে পারবেন।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা হল শক্তিগড়ের কেশব গোস্বামী গৌড়ীয় মঠের রথ। এই মঠের ইতিহাস আরও পুরনো। প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি আগে ওড়িশা থেকে আনা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহকে কেন্দ্র করেই এই মঠের প্রতিষ্ঠা।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক স্থানীয় ব্রাহ্মণ ওড়িশা থেকে তিনটি বিগ্রহ এনে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বার্ধক্যের কারণে নিয়মিত সেবা-পুজো করতে না পারায় নবদ্বীপের এক মহারাজ তাঁকে বিগ্রহগুলি মঠে প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানান। পরে উভয়েই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ব্রাহ্মণ সেই বিগ্রহ মহারাজের হাতে অর্পণ করেন। ভক্তদের সহযোগিতায় বর্তমান শক্তিগড় এলাকায় একটি বেড়ার ঘরে মন্দির গড়ে ওঠে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় রথযাত্রা। পরে ধীরে ধীরে বর্তমান পাকা মঠ নির্মিত হয়।
মঠের তরফে মদন মহারাজ জানান, স্নানযাত্রার আগেই রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। রথের দিন সকাল থেকে পূজার্চনা শুরু হয়। দুপুরে ভোগ নিবেদন শেষে দুপুর দুটোয় জগন্নাথদেব রথে আরোহন করেন এবং বিকেল চারটায় রথযাত্রা শুরু হয়। সাতদিন মাসির বাড়িতে অবস্থানের পর উলটো রথে আবার মূল মন্দিরে ফিরে আসেন জগন্নাথদেব। এই উপলক্ষ্যে নবদ্বীপ, বৃন্দাবন সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বৈষ্ণব সাধু, মহারাজ ও ভক্তরা আসেন। পাশাপাশি বর্ধমান রোড জুড়ে বসে ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা।
এছাড়াও শিলিগুড়ির রথখোলা, বিধান মার্কেট, ঘোঘোমালি, দেশবন্ধুপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে রথযাত্রা ও মেলার আয়োজন করা হয়। তবে ইসকন মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে শক্তিগড়ের গৌড়ীয় মঠের রথই ছিল শহরবাসীর প্রধান আকর্ষণ। আজও সেই ঐতিহ্য অটুট রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ