নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শ্রাবণ মাস চলছে। শিবভক্তরা দলে দলে বাঁকের কলসে জল ভরে পথ হাঁটছেন। নানা উপকরণ সাজিয়ে শিবভক্তদের সাহায্য করতে দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার রাস্তার বিভিন্ন প্রান্তে ‘সেবা ক্যাম্প’ চালু হয়েছে। বরানগরে বিজেপির নেতাদের উদ্যোগে চলা এমনই এক সেবা ক্যাম্পে মহিলা নর্তকী এনে প্রকাশ্যে অশ্লীল নাচ প্রদর্শনকে ঘিরে বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে এলাকায়। ওই মহিলা নর্তকীকে জড়িয়ে ধরে কখনও আবার কোলে তুলে বিজেপি নেতা-কর্মীরা মঞ্চে নাচ করেছেন। সেবা ক্যাম্পে হাজির ছিলেন বিজেপির মহিলা কর্মীরাও। বিরোধী তৃণমূল ওই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছে।
বরানগরের বিটি রোড জুড়ে হেঁটে জল নিয়ে তারকেশ্বর যাওয়া শিবভক্তদের পাশে দাঁড়াতে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্যাম্প করে। ওই ক্যাম্প থেকে ভক্তদের জল, শরবত, বিস্কুট, খিচুড়ি সহ নানা খাবার দেওয়া হয়। গত শনিবার বরানগরের তিন নম্বর ওয়ার্ডে মহামিলন মঠ পেরিয়ে এক পেট্রল পাম্পের পাশে বিজেপি নেতাদের উদ্যোগে এমন ক্যাম্প করা হয়েছিল। বিজেপি সূত্রের খবর, ওই ক্যাম্পের উদ্যোক্তা ছিলেন ১ নম্বর মণ্ডলের সহ সভাপতি জীতেন্দ্র গিরি, যুব মোর্চার সম্পাদক মেহেলি চট্টোপাধ্যায়, শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ তাপস শর্মা সহ অনান্য নেতারা। ওই ক্যাম্পে ভক্তদের শুধু প্রসাদ বিলি করেই ক্ষান্ত হননি বিজেপি নেতারা। ভোজপুরি চটুল গান ও নর্তকীর ব্যবস্থা করা হয়। বেশ কিছু সময় নর্তকী মঞ্চে একাই নাচ করছিলেন। মঞ্চে ও সামনে বিজেপি কর্মীরা মৌমাছির মতো ভিড় জমিয়ে বসে ছিল। রাত বাড়তেই সেই নাচের আসরের চেহারা বদলে যায়। বিজেপি কর্মীদের দাবি মেনে, নতর্কী ক্রমশ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। এরপর মঞ্চে ভিড় জমান বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এরপর ওই মহিলা নর্তকীকে কোলে তুলে, কখনও জড়িয়ে ধরে প্রকাশ্যে শুরু হয় অশ্লীলতা। ওই নাচের সময় মঞ্চের নীচে বিজেপি ও যুব মোর্চার মহিলা কর্মীরাও ছিলেন। ওই নাচের ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বরানগরের তৃণমূল কাউন্সিলার তথা যুব নেতা শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজো। তিনি ওই পোস্টে লিখেছেন, এটা শিব ভক্তদের সেবা করা? এটা বরানগরের সংস্কৃতি? মঙ্গলবার শান্তনুবাবু বলেন, এসব বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিহারের সংস্কৃতি বাংলায় চাপানোর চেষ্টা চলছে। প্রকাশ্যে বিজেপি নেতা-কর্মীদের এই অপসংস্কৃতির জবাব দেবে বরানগরবাসী।
এই বিষয়ে বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি মলি রায় সমস্ত অভিযোগ শোনেন। এরপর বলেন, বিধানসভায় কাজে এসেছি। পরে কথা বলব। যদিও পরে তিনি ফোন ধরেননি। উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করব।