


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে শহর কলকাতা। শুধু কলকাতা নয়, আশপাশের এলাকায়ও বারবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিষেশজ্ঞরা বলছেন, এসব ছোটোখাটো কম্পন আসলে বড় ঘটনার পূর্বাভাস! অদূর ভবিষ্যতে রিখটার স্কেলে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কিন্তু কেন? বিশেষজ্ঞরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন ১৩ কোটি বছর আগের ইতিহাসে। তাঁরা মনে করছেন, ঘনঘন ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ হতে পারে, ১৩ কোটি বছর আগে সুপারকনটিনেন্ট গন্ডোয়ানার ভাঙনে তৈরি হওয়া চ্যুতির ফের জেগে ওঠা।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ শিখেন্দ্র দে’র মতে, ‘অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ক্রিস-ক্রস চ্যুতি বা ফল্ট তৈরি হওয়ার পিছনে রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। সুপারকনটিনেন্ট গন্ডোয়ানা ১৩ কোটি বছর আগে ভেঙে যাওয়ায় এই অঞ্চলে গভীর চ্যুতি সৃষ্টি হয়েছিল। এই চ্যুতির মধ্যে রয়েছে ইওসিন হিঞ্জ জোন, পিংলা ফল্ট বা চ্যুতি ও দেবগ্রাম-বোগরা ফল্ট বা চ্যুতি। টেকটোনিক স্ট্রেসের ফলে এই সমস্ত চ্যুতি পুনরায় জেগে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে।’ এর পাশাপাশি আরও কিছু কারণ উল্লেখ করেন তিনি। যেমন, ইন্ডিয়ান প্লেটের অনবরত উত্তরমুখী ঠেলার ফলে হিমালয় ফ্রন্টের থেকে অনেক দূরে প্লেটগুলির মধ্যে চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণে তৈরি হওয়া চাপ প্লেটের সীমানার বাইরেও ভূকম্পন সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, এতখানি কম্পন অনুভূত হওয়ার জন্য দায়ী এই এলাকার মাটির চরিত্রও। বিশেষ করে বালি ও পলির পরিমাণ এই এলাকার মাটিতে বেশি। সেই কারণে ভূমিকম্প হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ তো গেল বিজ্ঞানের যুক্তি। কিন্তু রাতারাতি সব কিছুকে তো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাহলে আগামী দিনে কী হতে পারে? বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই অঞ্চলে এই ধরনের ভূমিকম্প বড়ো কিছু ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে। দু’টি টেকটোনিক প্লেটের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে এই অঞ্চল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাত্র ১ শতাংশ শক্তি এতদিনে নির্গত হয়েছে।
অদূর ভবিষ্যতে বড় রকমের ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রবল বলেই মনে করছেন তাঁরা।