Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রাইবুনালে ঝুলে ১২ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য

ট্রাইবুনালে উত্তরের ৮ জেলার ১২ লক্ষের বেশি ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে

ট্রাইবুনালে ঝুলে ১২ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ট্রাইবুনালে উত্তরের ৮ জেলার ১২ লক্ষের বেশি ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। বিধানসভা ভোটের পর চার মাস কেটে গেলেও তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখনও কোনো শুনানি হয়নি। ফলে ভোটার তালিকায় কবে তাঁদের নাম উঠবে, আদৌও উঠবে কি না তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ওইসব মানুষজন। 

Advertisement

সম্প্রতি, দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী একটি আরটিআই করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক যে উত্তর দিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মোট ১২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৫১ জন গত ৭ আগস্ট পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ৮ জেলা থেকে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ১৮ হাজার ৭৭০ জনের আবেদনের শুনানি হয়েছে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত ১২ লক্ষ ২১ হাজার ৮১ জনের ভোটের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। রাজ্যের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মোট ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬২০ জন গত ৭ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৭৮২ জনের আবেদনের শুনানি হয়েছে এ পর্যন্ত। বাকি লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদৌও কবে হেয়ারিং হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ মালদহের সাংসদ। বিষয়টি তিনি আদালতের নজরে আনতে শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।  তাঁর দাবি, রাজ্যের নিরিখে ট্রাইবুনালে আবেদন করা ৯১ শতাংশের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় এ পর্যন্ত ট্রাইবুনালে আবেদনকারী যতজনের শুনানি হয়েছে, সবার নামই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকায়। সেক্ষেত্রে ভোটের আগে এইসব মানুষগুলোর নাম কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল, কীসের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
আরটিআইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে দেওয়া উত্তরে দেখা যাচ্ছে, কোচবিহারে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া ১ লক্ষ ৫২ হাজার ১৯৫ জন ট্রাইবুনালে আবেদন করেন। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত শুনানির ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৯৬৭ জনের। বাদ গিয়েছে ১৪২ জনের নাম। জলপাইগুড়ি জেলায় ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন ৬১ হাজার ৬৭ জন। এর মধ্যে ৬৬৫ জনের হেয়ারিং হয়েছে। সবারই নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকায়। দার্জিলিং জেলায় ট্রাইবুনালে আবেদনকারীর সংখ্যা ৫০ হাজার ৭১২ জন। এর মধ্যে মাত্র ১৬০ জনের শুনানি হয়েছে। একজন বাদে সবার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকায়। আলিপুরদুয়ার জেলায় ট্রাইবুনালে আবেদনকারীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩৫ জন। হেয়ারিং হয়েছে ২৪০ জনের। ২৩৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকায়। বাদ গিয়েছে তিনজনের নাম। ট্রাইবুনালে সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে কালিম্পঙ জেলায়। আবেদনকারীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৮ জন। এর মধ্যে ২৮ জনের শুনানি হয়েছে। যাঁদের হেয়ারিং হয়েছে, সবার নাম যুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকায়। 
অন্যদিকে, গৌড়বঙ্গের তিন জেলার মধ্যে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ায় ট্রাইবুনালে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে মালদহ জেলায়। মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ১৪৯ জন। এর মধ্যে ১৪৭১ জনের শুনানি হয়েছে। কারো নাম বাদ যায়নি। উত্তর দিনাজপুর থেকে ট্রাইবুনালে আবেদনকারীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ১২ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে শুনানির ভিত্তিতে ৬১৪১ জনের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বাদ পড়েছে ৩৪০ জন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন ৮৪ হাজার ৮৭০ জন। উত্তরবঙ্গের আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শুনানি হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। হেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে এই জেলায় ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত হয়েছে ৮ হাজার ১৬ জনের। বাদ পড়েছে ১০১ জনের।
উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, নিখুঁতভাবে করার জন্যই হয়তো একটু বেশি সময় লাগছে। তবে এবার ট্রাইবুনালের গতি বাড়বে। জেলায় জেলায় শুনানি হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ