নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাংলার কৃষকদের তুলনায় আলুর অনেক কম দাম পাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের চাষিরা। সেখানকার অনেক জেলায় এক কুইন্টাল আলু ৯০০ টাকার কম দামে চাষিরা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এরাজ্যের কৃষিবিপণন দপ্তর সরাসরি চাষিদের থেকে আলু কিনছে। তার সুফল চাষিরা পাচ্ছেন। খোলা বাজারেও চাষিরা বেশি দামে আলু বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, আমাদের সরকার সব সময় চাষিদের পাশে থাকে। আলু চাষিরা যাতে সমস্যায় না পড়েন তারজন্য ন’টাকা কেজি দরে আলু কিনছে। কিন্তু, ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে চাষিরা সেই দাম পাচ্ছেন না। অথচ অনেকে বড় বড় কথা বলছেন।
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় ৬৫০ থেকে ৮৯০ টাকা কুইন্টালে আলু বিক্রি হয়েছে। বাঁদায়ু জেলায় ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় আলু বিক্রি হচ্ছে। বাঘপাট জেলায় ৭৫০ থেকে ৮১০ টাকায় চাষিরা আলু বিক্রি করছেন। বারেলি জেলাতেও প্রায় একই দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। ফরিদাবাদে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কুইন্টালে চাষিরা ব্যবসায়ীদের আলু বিক্রি করছেন। মথুরা জেলাতেও চাষিরা কুইন্টাল পিছু ৯০০ টাকার কম দামে আলু বিক্রি করছেন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই জেলাগুলিতে আলু উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু, সেখানকার চাষিরা কোনওবারেই কুইন্টাল পিছু আলুর দাম ৯০০ টাকা পাননি।
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এরাজ্যের চাষিরা মাঠে আলু মজুত করার পাশাপাশি হিমঘরেও আলু মজুত করছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৩৪ লক্ষ ৫২ হাজার ১২৫ কুইন্টাল আলু মজুত করা হয়েছে। বাঁকুড়ায় ১১ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৬৮ কুইন্টাল আলু হিমঘরগুলিতে রাখা হয়েছে। হুগলিতে ৭৭ লক্ষ ৬৫হাজার ৭৪৬ কুইন্টাল আলু রাখা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে ১৪ লক্ষ ২৫হাজার ৯৯ কুইন্টাল আলু হিমঘরে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের হিমঘরগুলিতে ১ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪৭০ কুইন্টাল আলু রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১১মার্চ পর্যন্ত ৯০ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩৪ কুইন্টাল আলু চাষি এবং ব্যবসায়ীরা হিমঘরে রেখেছিলেন। এরাজ্যে অধিকাংশ জেলায় কৃষকরা এক কুইন্টাল আলু ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। কৃষিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এবার এরাজ্যে আলুর ফলন ভালো হবে ধরে নিয়েই কৃষি বিপণন দপ্তর ময়দানে নেমেছে। সব জেলাতেই সহায়ক মূল্যে আলু কেনা হচ্ছে। এছাড়া সুফল বাংলা থেকেও আলু কেনা হচ্ছে। চাষিরা যাতে সমস্যায় না পড়েন তারজন্য প্রতিটি জেলার আধিকারিকরা বৈঠক করছেন। বুধবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় বৈঠক হয়। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, চাষিদের থেকে আলু কেনার জন্য টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই মতো সংশ্লিষ্ট দপ্তর ময়দানে নেমেছে।