সংবাদদাতা, বহরমপুর: ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর প্রভাবে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় মুর্শিদাবাদের চাষিদের উদ্বেগ বাড়ছে। বুধবার সকালে অর্ণব অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়েছে। ল্যান্ডফলের পর ঘূর্ণিঝড় শক্তি সংগ্রহ করে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদে অর্ণবের কিছুটা প্রভাব পড়বে। বুধবার দিনভর আকাশের মুখভার ছিল। এরইমধ্যে কিছু জমির ধান পেকে যাওয়ায় চাষিরা তা কাটতে মাঠে নেমে পড়েন। চাষিদের দাবি, ঝড়ের প্রভাব পড়ার আগেই নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তোলা দরকার। তবে চাষিরা আলু বসাতে মাঠে নামেননি।
দিগন্তব্যাপী মাঠ সোনালি ফসলে ভরে রয়েছে। এবার আমন ধানের ফলনও খুব ভাল। বাজারে ধানের দাম থাকায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। দুর্গোৎসব মিটতেই কাস্তে হাতে আমন ধান কাটতে চাষিরা মাঠে নেমে পড়েছেন। আগাম আমন চাষের জমি খালি করে আলুও বসাতে শুরু করেছেন অনেকে। এরইমধ্যে ঘূর্ণিঝড় চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে শুরু করেছে। বুধবার দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। আজ, বৃহস্পতিবার জেলায় হালকা ও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন হাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা। এরইমধ্যে এদিন আমন চাষিরা মাঠে নেমে ধান খামারে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
আমন চাষি বিক্রম মণ্ডল বলেন, বহু জমির ধান পেকে গিয়েছে। হালকা বৃষ্টি হলে তেমন ক্ষতি হবে না। তবে ঝড় হলে শিষ থেকে ধান ঝরে যাবে। পাশাপাশি ঝড়ের দাপটে ধান নুইয়ে জমিতে শুয়ে পড়লে কাটার খরচ বেড়ে যাবে। মুর্শিদাবাদে এবার চাষিদের মধ্যে আলু চাষে উৎসাহ কিছুটা কম। তবে ইতিমধ্যে প্রায় ছ’হাজার হেক্টর জমিতে আলু বসানো হয়ে গিয়েছে বলেই কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। দু’-চারদিনের মধ্যে যাঁরা আলু বসিয়েছেন অর্ণব-এর প্রভাবে তাঁরা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। বড়ঞা ব্লক এলাকার আলু চাষি কার্তিক পাল বলেন, গত সোম ও মঙ্গলবার দু’বিঘা জমিতে আলু বসিয়েছি। বৃষ্টি হলে মাটির তলার আলু সব পচে যাবে। ব্যাপক ক্ষতি হবে। তবে যেসব চাষি গোটা আলু বসিয়েছেন তাঁদের ক্ষতি কম হবে বলেই চাষিদের দাবি। অর্ণব-এর জেরে ভারী বৃষ্টি হলে সর্ষে চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এবার আলু চাষ কমিয়ে বহু চাষি জমিতে সর্ষে বুনেছেন। তাঁদের দাবি, ভারী বৃষ্টি হলে বহু বীজ থেকে গাছ বেরবে না।
নিজস্ব চিত্র



