নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বাংলায় সক্রিয় পুলিস! তাই অসমের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী করিমগঞ্জ জেলা দিয়ে ঢুকছে জালনোট! দু’দিন আগে ট্রেন থেকে ১০ লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে এমন অনুমান রেল পুলিসের গোয়েন্দাদের। তাঁদের সন্দেহ, বাংলাদেশের সিলেটে ঘাঁটি গেড়ে সংশ্লিষ্ট নয়া রুট নিয়ন্ত্রণ করছে ‘ডি’ কোম্পানির এজেন্টরা। এদিকে, ওই ঘটনায় বিহারের তিন পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃত ক্যারিয়াররা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের বেশে ট্রেন রুটে জালনোটের কনসাইনমেন্ট পাচার চেষ্টা চালায় বলে খবর। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর শুরু করেছে রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
জালনোট পাচারের পরিচিত রুটগুলির মধ্যে মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চরিঅনন্তপুর, পিটিএস মোড়, ধুলিয়ান, জলঙ্গি প্রভৃতি গ্রাম অন্যতম। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরই সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে জালনোট পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বাংলাদেশ থেকে একাধিকবার জালনোটের কনসাইনমেন্ট পাঠায়। এজন্য ওই সীমান্তগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসটিএফ ও পুলিস। তারা একাধিকবার পাচারের ছক ভেস্তে দিয়েছে। এজন্য বাংলার প্রতিবেশী রাজ্য অসমের করিমগঞ্জ জেলাকে নয়া রুট হিসেবে বেছে জালনোট পাচার সিন্ডিকেট। দু’দিন আগে কোচবিহারে ট্রেন থেকে জালনোট উদ্ধারের পর এমন অনুমান করছে রেল পুলিস।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, অসমের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলির মধ্যে করিমগঞ্জ অন্যতম। সংশ্লিষ্ট জেলার সীমান্তের একাংশে নদী পথ রয়েছে। কিছু এলাকা উন্মুক্তও। সেই জেলার ওপারে বাংলাদেশে সিলেট। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, পাকিস্তানে তৈরি ভারতীয় জালনোট মজুতের নতুন স্ট্যাকইয়ার্ড রয়েছে সিলেটে। যা ‘ডি’ কোম্পানির এজেন্টরা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারাই সেখান থেকে চোরাপথে অসম হয়ে ভারতের বিভিন্নপ্রান্তে জালনোট পাঠানোর ছক কষেছে। অসম থেকে কোচবিহারে আসা ট্রেন থেকে জালনোট উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট রুটের হদিশ মিলছে।
রেল পুলিসের শিলিগুড়ির সুপারিন্টেন্ডেন্ট কুনোয়ার ভূষণ সিং অবশ্য বলেন, অসম থেকে আসা ট্রেন থেকে জালনোট উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার নিউ কোচবিহার স্টেশনে বিবেক এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরায় তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ লক্ষ টাকার জালনোট। সবগুলি ৫০০ টাকার নোট। এই ঘটনায় বিহারের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জিআরপি। ধৃতদের নাম পাপ্পু কুমার, গুড্ডু কুমার ও অজয় বিন্দ। জিআরপি সূত্রের খবর, অসমের ডিব্রুগর থেকে ওই ট্রেন ছাড়ে। সেটি কন্যাকুমারী যাচ্ছিল। ধৃতরা কামাখ্যা থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেনে চাপে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সেই কনসাইনমেন্ট বিহারে নিয়ে যাচ্ছিল ধৃতরা। এই প্রথম ট্রেন থেকে বিপুল পরিমাণ জালনোট উদ্ধার হয়েছে। এনিয়ে পুলিস মহলে আলোড়ন পড়েছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে এসটিএফ। এই অবস্থায় ধৃতদের হেফাজতে নিতে মঙ্গলবার কোচবিহারের আদালতে জিআরপি আবেদন জানিয়েছে বলে খবর। জিআরপির শিলিগুড়ির সুপারিন্টেন্ডেন্ট বলেন, ওই ঘটনা সম্পর্কে এসটিএফকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ধৃতদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।