


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে জাল লটারির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করল সিআইডি। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে লটারির নকল টিকিট, নগদ সহ বিভিন্ন সামগ্রী। বিভিন্ন রাজ্যের লটারির টিকিট জাল করে একটি চক্র বেআইনি কারবার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, পুরুলিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় জাল পেপার লটারি টিকিটের রমরমা কারবার চলছে। বিভিন্ন জায়গায় টেবিল পেতে বিক্রি হচ্ছে এই টিকিট। সপ্তাহে বা দিনে এই খেলা হচ্ছে। মোটা টাকা পুরষ্কারের টোপ থাকছে। দেখা যাচ্ছে, এই লটারির টিকিটের সবই ভিন রাজ্যের। যাদের একটা বড় অংশের এখানে টিকিট বিক্রির কোনোও অনুমতি নেই। আবার রাজ্য সরকারের অনুমতি না নিয়েই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের লটারির টিকিটও বিক্রি হচ্ছে। খেটেখাওয়া মানুষ এই লটারি খেলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছে অবৈধ এই কারবারের পান্ডারা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরই সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয় বিভিন্ন জেলায় জাল লটারির বিষয়ে খোঁজখবর সংগ্রহ করে তল্লাশি অভিযান চালাতে। সিআইডি জানতে পারে, একাধিক জেলায় এই বেআইনি কারবার চলছে। টিকিট বিক্রি হচ্ছে কুড়ি. পঞ্চাশ, একশো ও দুশো টাকায়। তার ভিত্তিতে হাওড়া, বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া সহ আটটি জেলায় একাধিক কেস রুজু হয়। গ্রেপ্তার করা হয় গোটা দশেক ব্যক্তিকে।
ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বেশ কয়েকটি রাজ্যের লটারির টিকিট বিক্রি এখানে নিষিদ্ধ। সেই লটারির টিকিটগুলি বিভিন্ন ছাপখানায় ছাপানো হচ্ছে। এর পিছনে একটা বড় চক্র রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় তাদের এজেন্ট রাখা রয়েছে। তারাই এই টিকিট নিয়ে গিয়ে জেলার বিভিন্ন বাজারে বা এলাকায় বিক্রি করছে। আমজনতা না জেনেই এই জাল টিকিট কিনছেন। বিপুল পরিমাণ পুরষ্কারের কথা বলা হলেও, তা কেউই পাচ্ছেন না। বিপুল পরিমাণ লাভ থাকছে চক্রের পান্ডাদের। যে কারণে এই বেআইনি ব্যবসার কারবারের এত রমরমা বেড়েছে। পান্ডাদের খোঁজে তদন্তকারীরা।