নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শালবনিতে সরকারি জমি দখলের পর সেগুলির ভুয়ো নথি তৈরি হত এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নির্দেশে। এমনকি ভুয়ো নথি দিয়ে রেকর্ড বদলে ফেলার জন্য তাঁর ফোন গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিএলএলআরও থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তার কাছে, যাতে নথি নিয়ে কেউ প্রশ্ন না তোলে। শালবনি জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে নেমে তাদের হাতে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে বলে দাবি সিআইডির। পাশাপাশি চার্জশিটে তদন্তকারী সংস্থা এই ভুয়ো দলিলের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। যদিও এই নথি বিষয়ক প্রশ্নের জবাব সিআইডির কাছে এড়িয়ে গিয়েছেন সুমিত। এদিকে এই ঘটনায় সুজয়ের সহযোগী অমিত ঘোষকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে সিআইডি উল্লেখ করেছে, অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে অসংখ্য ভুয়ো নথি তৈরি করা হয়েছে। এই কপি জমা পড়েছে জেলার রেজিস্ট্রি অফিস এবং বিএলএলআরও দপ্তরে। সেগুলি যাচাই করাই হয়নি। একটি দুটি নয়, এই জাল নথি তৈরি হয়েছে কয়েক হাজার! জাল নথি তৈরি করতেন পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা। তাঁর বাড়িতেই এই কাজ চলত। জাল সরকারি সিল ও স্ট্যাম্প তৈরি করা হয় এই কাজের জন্য। তবে গোটা কাজটাই চলত সুমিতের নির্দেশমতো।
এভাবে উদ্বাস্তু এবং জাতীয় সড়কের জন্য বরাদ্দ জমির ভুয়ো নথি তৈরির পর তার হাতবদল হয়ে গিয়েছে। এই কাজ চলেছে বছরের পর বছর। সুজয়ের মোবাইল ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই নথি বদলের পরিকল্পনা সুমিতের। কীভাবে এই কাজ করতে হবে এই বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে নির্দেশ দিয়েছেন সুজয় হাজরাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই তৃণমূল নেতা মৃত বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম জোগাড় করে তাঁদের নামে জমির ভুয়ো নথি তৈরি করেন। বিক্রির আগে বিএলএলআরও অফিসে গিয়ে জমির রেকর্ড বদলে ফেলা হয়, যাতে ক্রেতা জানতেই না পারেন সেগুলি সরকারি জমি। এক্ষেত্রে বিএলএলআরও অফিসে কয়েকজন কর্মী তদন্তকারীদের নজরে, যাঁরা টাকার বিনিময়ে রেকর্ড পরিবর্তন করেছেন। পাশাপাশি, জমি রেজিস্ট্রির সময় নথি যাচাই না-করার জন্য সুমিতের নির্দেশে সুজয় কাদের উপর চাপ দিয়েছিলেন তাঁদের নামও হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করবে সিআইডি।