নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সারা দেশেই যুব সমাজের কাছ থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সিপিএম তথা বামেরা। ধস নামছে তাদের যুব ভোট ব্যাংকে । বিভিন্ন রাজ্য তথা জাতীয় নির্বাচনে তা স্পষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুব সমাজের ভরসা কুড়োতে নিট ইস্যুকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে বামেরা।
মেডিকেলে ভরতির সর্বভারতীয় পরীক্ষা নিট-ইউজি পরীক্ষার আয়োজনে রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়েছে মোদি সরকার। প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগে এবছর নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল হয়। গত রবিবার হয়েছে রি-নিট। ওই পরীক্ষা মোটামুটি নির্বিঘ্নে মিটলেও তার আয়োজন ও প্রশ্নপত্র নিয়ে বিক্ষিপ্ত অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে নিট ইস্যুতে যুব ভোটব্যাংক কবজা করতে মরিয়া হয়েছে বামপন্থীরা। পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অভিযোগ সেল খুলেছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। তারা জনিয়েছে, নির্দ্বিধায় নিট সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানানো যাবে। সুরাহার জন্য আইনি লড়াই করা হবে এসএফআইয়ের পক্ষ থেকেই। এমনকি বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবেও পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে অভিযোগকারীদের নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে। এসএফআই জানিয়েছে, অনলাইনেই এসংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা।
তবে গত রবিবার, রি-নিট পরীক্ষার দিন বেঙ্গালুরুতে রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তিনজন পরীক্ষার্থীর সময়মতো সেন্টারে পৌঁছতে না পারা নিয়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে। বিজেপি এজন্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, রি-নিট পরীক্ষার দিনক্ষণ জানা সত্ত্বেও কংগ্রেস রবিবার রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করে। যদিও বেঙ্গালুরু ট্র্যাফিক পুলিস অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ট্র্যাফিক পুলিস জানিয়েছে, ওই তিন ছাত্রী বাড়ি থেকে পরীক্ষার মাত্র ৩৩ মিনিট আগে বের হয়েছিলেন। তুলনায় ‘শর্ট রুট’ থাকলেও তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন অপেক্ষাকৃত ‘লং রুট’কে। সবমিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট পর পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছন তারা। ওইদিন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য উল্লেখযোগ্য যানজট ছিল না। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ‘নিয়মের কড়াকড়ি করতেই হবে। নাহলে পরীক্ষা স্বচ্ছ হবে না। কঠোর বন্দোবস্ত ছিল বলেই রি-নিট নির্বিঘ্নে মিটেছে।’



