


সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ছুরিকাহত হলেন দলেরই এক নেতা। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে হলদিবাড়ি ব্লকের পার মেখলিগঞ্জ গ্ৰাম পঞ্চায়েতের নগর সাহেবগঞ্জ লীলাহাটিতে। যদিও ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে আছে অভিযুক্ত। মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিস পি সুব্বা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার খোঁজ চলছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার বাসিন্দা বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তপন রায়ের সঙ্গে এক বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যদিন অশান্তি চলছিল। বুধবার সকালে স্ত্রী রাগ করে বাপেরবাড়ি চলে যান। রাতে দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে কেনাকাটা করে পঞ্চায়েত সমিতির ওই সদস্য বাড়ি ফিরছিলেন। সেইসময় তাঁর দলেরই এক কর্মী তাঁর পথ আটকায়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বচসার মাঝেই বুকের মধ্যে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। এতে তপন রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হলদিবাড়ি থানার পুলিশ। জখম বিজেপি নেতাকে উদ্ধার করে হলদিবাড়ি গ্ৰামীণ হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে পরে মেখলিগঞ্জ মহকুমার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জখম ব্যক্তি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুন্দর ঋষি বলেন, বুধবার রাতে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি আমাদের গ্রামের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। জখম বিজেপি নেতার মা কল্পনা রায় জানান, ওই রাতে ছেলে দেওয়ানগঞ্জ বাজারে সবজি কিনে বাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিল। সেই সময় কোনো এক দুষ্কৃতী ছেলের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের তৎপরতায় ছেলেকে বাঁচানো গিয়েছে। ছেলে বর্তমানে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটিতে ভর্তি আছে। আমরা চাই, অভিযুক্তকে পুলিশ চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য অপূর্বকুমার রায় জানান, আমাদের দলের এক নেতা ছুরিকাহত হয়েছেন। এতে পরিষ্কার ভোটের মুখে শান্ত পরিবেশ অস্থির করার চেষ্টা চলছে। আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে দোষীকে চিহ্নিত করুক। দোষীর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের হলদিবাড়ি ব্লক সভাপতি মানস রায় বসুনিয়া বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আক্রমণকারীর নাম প্রকাশ করেছেন। এলাকার মানুষ জানে আক্রমণকারী কোন দলের সঙ্গে যুক্ত। আসলে ওটা ওদের দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। আমরাও চাই, উপযুক্ত তদন্ত হোক।