Bartaman Logo
৮ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুহ্যকালী মন্দির সংস্কারের নামে তোলাবাজি, প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

নলহাটির ঐতিহ্যবাহী আকালিপুর গুহ্যকালী মন্দিরে বেআইনি অর্থ আদায়ের অভিযোগ বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।

গুহ্যকালী মন্দির সংস্কারের নামে তোলাবাজি, প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটির ঐতিহ্যবাহী আকালিপুর গুহ্যকালী মন্দিরে বেআইনি অর্থ আদায়ের অভিযোগ বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। মন্দির সংস্কার ও মেলার নামে রসিদ ছাপিয়ে পুণ্যার্থীদের থেকে টাকা তোলায় নাম জড়িয়েছে এলাকার বিজেপি নেতাদের। যা নলহাটি ২ ব্লকের গেরুয়া শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্বকে এক লহমায় প্রকাশ্যে এনেছে। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার মন্দির চত্বরে গিয়ে রসিদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি বেআইনি অর্থ আদায়ও বন্ধ করে দিয়েছে।

Advertisement

অভিযোগ উঠেছে, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে ‘আকালিপুর কালীমন্দির ও মেলা কমিটি’ নামে রসিদ ছাপিয়ে মন্দিরের সামনে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে পুণ্যার্থীদের থেকে টাকা তোলা হচ্ছিল। অভিযোগ, মন্দির সংস্কারের নাম করে ওই টাকা তোলা চলছিল। মেলার মাঠে গাড়ির পার্কিং ফি আদায় করা হচ্ছিল। মেলায় স্টল বসানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচার চালানো হচ্ছিল। চেকে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল কমিটির সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিকের নাম সম্পাদক হিসাবে, সহ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ হিসাবে নাম রয়েছে মণ্ডল কমিটির আরও দুই সদস্যর। বিষয়টি জানতে পেরে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি গোবিন্দ মাহান্ত প্রথমে রবীন্দ্রনাথবাবুকে সতর্ক করলেও কাজ হয়নি। এই নিয়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর তরজাও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের ভাবমূর্তি বাঁচাতে গোবিন্দবাবু মঙ্গলবার থানায় খবর দেন এবং পুলিশ এসে টাকা তোলা বন্ধ করে রসিদ বই বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। 
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিক দাবি করেছেন, মন্দিরের ভোগঘর সংস্কার, টয়লেট ও শ্মশান পরিষ্কারের জন্য রাজ পরিবারের অনুমতি নিয়েই অনুদান সংগৃহীত হচ্ছিল। ৪ মে-র পর দলে আসা ‘নব্য’ বিজেপির নেতারা চক্রান্ত করে আমাদের মতো ‘আদি’ বিজেপিদের কোণঠাসা করতেই পুলিশ ডেকে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, মণ্ডল সভাপতি গোবিন্দ মাহান্ত স্পষ্ট বলেন যে, দল কোনোভাবেই তোলাবাজি বরদাস্ত করবে না। কয়েকদিন আগেই রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিককে মন্দির সংস্কারের নামে তোলাবাজি বন্ধ করার জন্য সর্তক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেননি। তাই পুলিশ ডেকে এসব বন্ধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে  দল থেকে বহিষ্কারের জন্য জেলা সভাপতির কাছে সুপারিশ করেছি। বিজেপির জেলা এগজিকিউটিভ মেম্বার হীরালাল দাসও এই তোলাবাজির তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ রাজ পরিবারের বর্তমান বংশধর ভবানীশংকর রায়। তিনি বর্তমানে বহরমপুরে থাকেন। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেলা বসানোর জন্য কেবল অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। টাকা তোলা বা রসিদ ছাপানোর কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। এতে রাজ পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে মেলার অনুমতিও বাতিল করার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মণ্ডল সভাপতি বিষয়টি আমার নজরে এনেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগ করলে মণ্ডল সহ সভাপতি সহ বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ