নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লাগামহীন তোলাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পাততাড়ি গোটাচ্ছেন উদ্যোগপতিরা! পূর্বতন সরকারের আমলে প্রায়শই এমন অভিযোগে সোচ্চার হত বিজেপিসহ তৎকালীন বিরোধী দলগুলি। রাজ্যবাসী আশা করেছিল, পালাবদলের পর এই ‘কালচার’-এ ইতি পড়বে। বিজেপির শীর্ষস্তরের নেতাদের আশ্বাসবাণী তাদের আরও আশাবাদী করে তুলেছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির যে খুব একটা হেরফের হয়নি, বেলঘরিয়ার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ঘটনা যেন তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ!
দক্ষিণ দমদমের প্রমোদনগরে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া অংশে রয়েছে বিশাল ভাগাড় বা ডাম্পিং গ্রাউন্ড। পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে জমে রয়েছে আবর্জনা। সেখানে বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির প্রসেসিং ইউনিট চলছে বছর পাঁচেক ধরে। জনা পঞ্চাশেক কর্মী কাজ করেন। এবার সেই ইউনিটেই হামলা, মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে প্রায় ৫০ জনের একটি দল ওই সংস্থার অফিসে ঢুকে ম্যানেজার এবং কর্মীদের মারধর করে বলে অভিযোগ। রবিবার সকালেও কিছু লোক ইউনিটের দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। নিজেদের দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সির অনুগামী বলে দাবি করে অভিযুক্তরা। ‘বিজেপির ছেলেদের’ সেখানে কাজে না ঢোকালে প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। আতঙ্কিত কর্মীরা সোমবার কাজে না আসায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় প্লান্ট বন্ধ করে দিতে। সংস্থার তরফে দমদম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংস্থার এমডি সুধীর সাতনলিওয়ালা বলেন, ‘জ্যোতি বসুর আমল থেকে বাংলায় কাজ করছি। ধাপা থেকে শুরু করে প্রমোদনগর, শিলিগুড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্লান্ট চলছে। কিন্তু এখানে শনি ও রবিবার যা হয়েছে, তাতে আমরা স্তম্ভিত। ৪০-৫০ জন লোক এসে কর্মীদের মেরেছে। বলছে, তাদের লোককে কাজে নিতে হবে। মাসে মাসে তোলা দিতে হবে। পুলিশকে সবটা জানিয়েছি।’ এনিয়ে দমদমের বিধায়ক অরিজিৎবাবু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই সংস্থার কর্মীরা আশপাশের মানুষজন, এমনকি মহিলাদের কটুক্তি করত বলে অভিযোগ আসছিল। শনিবার রাতে ওরা স্থানীয় একটি চায়ের দোকান ভাঙচুর করে। পালটা এলাকাবাসী দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদ করেছে। এর সঙ্গে বিজেপি বা রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই রাজ্যে কারখানা বন্ধ হতে দেব না। ব্যবসার পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। বিজেপির নাম করে কেউ একাজ করলে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করবে।’
প্রসঙ্গত, এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে দমদমের তিনটি পুরসভা ছাড়াও নিউ বারাকপুর ও বরানগর পুরসভার আবর্জনা পড়ে। জঞ্জালের স্তূপে মাঝেমধ্যেই আগুন ও ধোঁয়া দেখা যেত। ঝাঁঝালো গন্ধে নাজেহাল হতেন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। তাই ২০২১ সালে ‘ইস্টার্ন অর্গানিক লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থাকে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্ব দেয় ‘সুডা’। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের একপাশে শেড তৈরি করে ইউনিট চালু হয়। জমে থাকা আবর্জনা বিভিন্ন মেশিনের মাধ্যমে প্রসেসিং করে প্লাস্টিকজাতীয় সামগ্রী ও কাদা আলাদা করা হয় এখানে। এরপর তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় সার ও সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহারের জন্য।