Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরকীয়া সম্পর্ক! তরুণকে ক্লাবে এনে তোলাবাজি, মারধর! গ্রেপ্তার বিজেপির বুথ সভাপতি

চিংড়ি প্রসেসিং ইউনিটের এক সহকর্মীর সহযোগিতায় কর্মস্থলের অপর এক তরুণের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছেন স্ত্রী।

পরকীয়া সম্পর্ক!  তরুণকে ক্লাবে এনে তোলাবাজি, মারধর! গ্রেপ্তার বিজেপির বুথ সভাপতি
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: চিংড়ি প্রসেসিং ইউনিটের এক সহকর্মীর সহযোগিতায় কর্মস্থলের অপর এক তরুণের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছেন স্ত্রী। সন্দেহের বশে তরুণীর স্বামী বিষয়টি জানান পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকায় ছিট কালিকাপুরের বিজেপির বুথ সভাপতি সমিত মালিক  ওরফে নাটুকে। এরপর নিজেই পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বিজেপির ওই বুথ সভাপতি মুকুন্দপুরের চিংড়ি প্রসেসিং ইউনিটের কর্মী অসীম অধিকারীকে তুলে আনেন ‘খাপ পঞ্চায়েতে’ (স্বঘোষিত বিচারসভা)।  স্থানীয় এক ক্লাবের ওই ‘বিচারসভায়’ আটকে রেখে অসীমবাবুকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি ‘জরিমানা’ ধার্য করে টাকা আদায় করার অভিযোগও উঠেছে। শাসক দলের একজন বুথ সভাপতি যেভাবে স্বঘোষিত পুলিশ হয়ে আইন হাতে তুলে নিয়েছেন, তাতে বিজেপি র নীচুতলার কর্মীদের উপর শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বুথ সভাপতি সমিত ওরফে নাটুকে গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব যাদবপুর থানা । তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব যাদবপুর এলাকায় একটি চিংড়ি মাছের প্রসেসিং ইউনিটে তাপসী নামে এক তরুণী কাজ করতেন।  সেখানে সহকর্মী  এক তরুণের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান ওই তরুণী। দুজনে প্রায়ই দেখা করতেন বিভিন্ন জায়গায়। চলতি মাসের শুরুতে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে পালিয়ে যান ওই তরুণী। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তাঁর স্বামী। তিনি সন্দেহ করেন ওই তরুণের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছেন ইউনিটের অপর এক কর্মী অসীম অধিকারী। তরুণীর স্বামী বিষয়টি বুথ সভাপতি সমিতকে জানান। বিষয়টি জানাজানি হবে বলে পুলিশে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ, ছিট কালিকাপুর এলাকার বিজেপির ওই বুথ সভাপতি বিষয়টি দেখে নেবেন বলে কথা দেন তরুণীর স্বামীকে। এরপর ১১ আগস্ট বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ সমিত তার দলবল নিয়ে চিংড়ি প্রসেসিং ইউনিটে হাজির হন। আলোচনা আছে বলে অসীমবাবুকে কারখানার বাইরে নিয়ে আসেন। অভিযোগ,অসীমবাবু কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন সমিত ও তাঁর সহযোগীরা। প্রথমে কিল, চড়,ঘুষি মারা হয়। এরপর তাঁকে টানতে টানতে সমিত নিজের ক্লাবে নিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে দেন। লাঠি দিয়ে মারা শুরু হয়। প্রহৃত অসীমবাবু জানান, ওই তরুণীর সম্পর্কের বিষয়ে কোনো ধারণা নেই তাঁর। তরুণী যে অন্য এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এটা প্রথম শুনলেন। তিনি ওই তরুণকে চেনেন না। একথা শোনার পর মারধরের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন বুথ সভাপতি। এমনকি জরিমানা ধার্য করেন। অসীমবাবুকে বাধ্য করা হয়, এক মহিলার অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা ট্রান্সফার করতে। এই টাকা দেওয়ার পর তিনি ছাড়া পান। অসীমবাবু গোটা বিষয়টি তাঁর মালিককে জানান। মালিক রাজর্ষি ব্যানার্জী পূর্ব যাদবপুর থানায় বিজেপির বুথ সভাপতি সহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।  করেন। তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় কেস রুজু করে ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় বুথ সভাপতিকে। তাঁর সঙ্গীরা পলাতক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ