নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গতকাল অর্থাৎ বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট পর্ব মিটেছে। তারপরই আজ, বৃহস্পতিবার বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই বুথফেরত একাধিক সমীক্ষায় বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু সেই দাবিকে কার্যত হেলায় উড়িয়ে মমতা দাবি করেন, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে ওই সমীক্ষা দেখাতে বাধ্য করেছে গেরুয়া শিবির। দৃঢ় কন্ঠে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ২২৬টি-রও বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এগজিট পোলকে সরাসরি বিজেপির চক্রান্ত বলেও তোপ দেগেছেন তিনি। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির এজেন্ট হয়ে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এটা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কটাক্ষ করেছেন। এদিন মমতা বলেন, আমি আপনাদের জানাতে চাই যেটা টিভিতে দেখানো হচ্ছে সেটা গতকাল দুপুর ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে জারি করা সার্কুলার। সংবাদমাধ্যমকে টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখানোর জন্য। কার্যত জোর করেই সংবাদমাধ্যমকে এটা করার জন্য বাধ্য করা হয়েছে। এই বুথফেরত সমীক্ষার মাধ্যমে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী শেয়ার বাজারে ধস নামার আশঙ্কা ঠেকাতেই বিজেপির এই ছক বলেও দাবি করেছেন মমতা।
পাশাপাশি তিনি রাজ্যবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এত রোদের মধ্যেও সমস্ত অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যে ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওঁরা মরণপণ লড়াই করেছে। মার খেয়েছে কিন্তু এলাকা ছেড়ে পালায়নি। ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের অত্যাচারও সহ্য করেছে। শিশু এবং মেয়েদের মারার বিষয় নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। এছাড়া হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে যে ব্যক্তি ভোট দিতে গিয়ে মারা গিয়েছেন তাঁর পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকপ্রকাশও করেছেন তিনি। বলেন, যাঁরা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিল তারা এবার নিজেরাই ভোটবাক্সে জব্দ হয়েছে। শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গণনাকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। প্রয়োজনে আমিও পাহারা দেব। সমস্ত প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। দরকারে রাতেও জেগে থাকুন। যদি আমি পারি তাহলে আপনারাও নিশ্চই পারবেন। আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্র বদলে দেওয়ার ছক করা হয়েছে। গণনার সময় দলীয় কর্মীদের কেন্দ্রেই লাগাতার বসে থাকতে বলেন। শৌচাগারে বা খেতে যাওয়ার সময় অন্য কোনও দলীয় কর্মীকে সেখানে বসিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। কিন্তু একাধিক বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। এরপরই আজ ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখেন মমতা।



