Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দেবদলন, ঐতিহ্যবাহী তিনটি রথ ঘিরে মেদিনীপুরে উন্মাদনা তুঙ্গে

মেদিনীপুরে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব চলছে। নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দেবদলন রথে ভিড় উপচে পড়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দেবদলন, ঐতিহ্যবাহী তিনটি রথ ঘিরে মেদিনীপুরে উন্মাদনা তুঙ্গে
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: কংসাবতী বা কাঁসাই নদীর তীরে অবস্থিত সুপ্রাচীন নগরী মেদিনীপুরের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান জগন্নাথ মন্দির। বলাই বাহুল্য, জগন্নাথ দেবের মন্দিরকে কেন্দ্র করেই এই জায়গার নাম হয়েছে জগন্নাথ মন্দির। আঞ্চলিক গবেষকরা জানান, আনুমানিক ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে এই জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। তাম্বুলী সম্প্রদায়ভুক্ত জমিদার জন্মেঞ্জয় মল্লিক স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সেইসময় থেকেই সম্প্রীতির শহর মেদিনীপুরে হয়ে আসছে রথযাত্রা উৎসব। তবে, তখন এত জাঁক ছিল না। বর্তমানে, জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটির উদ্যোগে ধুমধাম সহকারে রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় মেদিনীপুর শহরে। নন্দী ঘোষ, তালধ্বজ ও দেবদলন নামে তিনটি রথে চেপে শহর পরিক্রমা করেন জগন্নাথ দেব, বলরাম দেব ও মাতা সুভদ্রা। রথের রশি (দড়ি) টানতে ভিড় উপচে পড়ে মেদিনীপুর শহরে।

Advertisement

জগন্নাথ মন্দিরের অদূরেই নতুনবাজার এলাকায় গুণ্ডিচা মন্দিরে রয়েছে, জগন্নাথ দেবের মাসিরবাড়ি। সেখানে সাত দিন কাটিয়ে ফের উল্টোরথে বাড়ি ফিরে আসেন জগন্নাথ দেব। রথের দিন ও উল্টোরথের দিন জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা। মাঝখানের সাত দিন মেলা বসে নতুনবাজারের মাসিবাড়িতে। আর এই সবকিছুই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটি। কমিটির তরফে মৃণালকান্তি দাস, দেবেশ দাস প্রমুখ বলেন, উনবিংশ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি একসময় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ১৯৯৫ সালে মন্দিরটি সংস্কারের করা হয়। সেই থেকেই জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটির জন্ম হয়। স্থানীয় বাসিন্দা তথা মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, মেদিনীপুর শহর সম্প্রীতির শহর। প্রায় ২০০ বছর ধরে এই রথযাত্রা উৎসবে দলমত নির্বিশেষে আপামর মেদিনীপুরবাসী শামিল হয়ে আসছেন। জগন্নাথ মন্দিরের বাসিন্দা অরূপ দাস বলেন, একসময় মন্দিরের নামে প্রচুর সম্পত্তি ছিল। কালের স্রোতে তা বেহাত হয়ে গিয়েছে। তবে, বিলীন হয়নি মন্দিরের ইতিহাস আর ঐতিহ্য।
জগন্নাথ মন্দির আর নতুনবাজার থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে, কাঁসাই নদীর তীরে অবস্থিত গান্ধীঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম নয়। ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এখানেই ‘জাতির জনক’ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর চিতাভস্ম ভাসিয়েছিলেন বিপ্লবীরা। সেই থেকেই এর নাম হয় গান্ধীঘাট। আগে অবশ্য এই ঘাট ঘিরে শহরবাসীর এতখানি উৎসাহ ছিল না। এই ঘাটে তাঁরা স্নান করতেন। জামাকাপড় কাচতেন। সর্বোপরি এই ঘাটেই প্রতিমা বিসর্জন হত। ২০১১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এখানে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি স্থাপিত হয়। রাস্তাঘাটের সংস্কার করা হয়। গাছের চারিদিক সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো হয়। ২০২১ সালের শেষের দিকে মেদিনীপুর পুরসভার উদ্যোগে এখানে গঙ্গার ঘাটের আদলে সৌন্দর্যায়ন হয়। কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় রিভার ভিউ পয়েন্ট। সেইসঙ্গেই সুপ্রাচীন রাম-সীতার মন্দিরটিও সংস্কার করা হয়। ২০২২ সালে গান্ধীঘাটের পাশেই ইসকনের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ