


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সারা দেশে স্কুলপিছু পাঠাগারে সাকুল্যে এক হাজার বইও নেই। বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি দেশের একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের ছবিটাও কার্যত একই। দেখা যাচ্ছে, ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে কোথাও স্কুলপিছু ৪৭৩টি, কোথাও ৩৮৮টি, কোথাও আবার মাত্র ৩১৮টি বই রয়েছে পাঠাগারে। শিক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টে এহেন পরিসংখ্যান সামনে আসতেই অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে মোদি সরকার। সামগ্রিক বিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল।
শিক্ষাবিদদের মতে, যত দিন যাচ্ছে, ততই পাঠ্যসূচির বাইরে অন্য বই পড়ার অভ্যাস কমছে পড়ুয়াদের। তুলনায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি সময় ব্যয় করছে সামাজিক মাধ্যমে। এর পরেই প্রশ্ন উঠেছে, স্কুলের পাঠাগারগুলির এমন বেহাল দশা কি আদতে সেই ছবিরই প্রতিফলন? প্রতি স্কুলের পাঠাগারে কীভাবে বইয়ের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা যায়, সরকারি স্তরে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, সারা দেশে যত স্কুল রয়েছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে তার সবক’টি পাঠাগারে মোট বইয়ের সংখ্যা ১২১ কোটি ৭২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮১৫টি। যদিও এই স্কুলগুলির ক্যাটিগরি ভাগ করা হয়নি। অর্থাৎ, এইসব স্কুল সরকারি, বেসরকারি, সরকার পোষিত নাকি সবক’টি ক্যাটিগরির সম্মিলিত পরিসংখ্যান—তার উল্লেখ করা হয়নি।
ওই রিপোর্ট বলছে, সারা দেশে স্কুলপিছু পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা মাত্র ৮২৭টি। কারণ বইয়ের সংখ্যা যেখানে ১২১ কোটির বেশি, সেখানে দেশব্যাপী স্কুলও রয়েছে ১৪ লক্ষেরও বেশি। অর্থাৎ, প্রয়োজনের তুলনায় স্কুলের পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষামন্ত্রকের রিপোর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে স্কুলপিছু পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা রয়েছে ৪৭৩টি। অপর বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরায় এই সংখ্যা মাত্র ৩৮৮টি। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য রাজস্থানে প্রতি স্কুলের পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা ৭২০টি। অসমে স্কুলপিছু পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা ৬১৭টি। এনডিএ শাসিত ভোটমুখী রাজ্য বিহারে এই সংখ্যা মাত্র ৩১৮টি। স্কুলপিছু পাঠাগারে পাঁচ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে, সারা দেশে এমন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দু’টি—চণ্ডীগড় ও গোয়া। চণ্ডীগড়ে স্কুলপিছু পাঠাগারে ৯ হাজার ৯৯০টি এবং গোয়ায় ৫ হাজার ৯৩২টি বই রয়েছে।