নিজস্ব প্রতিদিন কলকাতা: বেশ কিছুদিন ধরে থমকে থাকার পর মঙ্গলবার মৌসুমি বায়ু দেশে আরো কিছুটা অগ্রসর হল। এদিন মুম্বইসহ মহারাষ্ট্র, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের আরো কিছু অংশে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। তেলেঙ্গানা এবং ওড়িশার যে অংশটুকু বাকি ছিল সেখানেও আজ বর্ষা ঢুকছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর আরো জানিয়েছে, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশে বর্ষা ঢুকবে। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়ের আরো কিছু অংশ, উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ এবং বিহার ও ঝাড়খণ্ডের অবশিষ্টাংশে কয়েকদিনের মধ্যেই বর্ষাকাল শুরু হতে পারে। দেশে বর্ষার অগ্রগতি এবার খুবই মন্থর। উত্তর ও মধ্য ভারতে বর্ষাকালীন বৃষ্টির প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। এজন্য উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। তবে দু-একদিনের মধ্যেই দেশে বর্ষা কিছুটা সক্রিয় হয়ে বৃষ্টির বহর বাড়বে। এমন আশ্বাস কয়েকদিন আগেই দিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তরের ডিজি মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র।
দেশের অনেকাংশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার বৃষ্টি পরিস্থিতি তুলনায় ভালো। জুন মাসে এখনো পর্যন্ত রাজ্যে দীর্ঘকালীন গড়ের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গড় মোট বৃষ্টি হয়েছে ২১১.৭ মিমি। আবহাওয়া বিজ্ঞানের বিচারে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে—দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। সবচেয়ে বেশি ৪২ শতাংশ ঘাটতি পুরুলিয়ায়। সেখানে ৯৪.৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে হুগলিতে (২৬৬.৫ মিমি)। এটা গড়ের চেয়ে ৫৯ শতাংশ বেশি। উত্তরবঙ্গে মালদা ও দুই দিনাজপুরেই বৃষ্টির ঘাটতি আছে। উত্তরবঙ্গের উপরের দিকে—পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি আপাতত চলবে। কালিম্পং ছাড়া ওই এলাকার বাকি চার জেলায় জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। নজর রাখা হচ্ছে সেটির গতিপ্রকৃতির উপর।