Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গেটের সামনে থেকে জবরদখল হটলেও টোটোতে সমস্যা বাড়ছে

বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে টোটোচালকদের কারণে যানজট বেড়ে গেছে। অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী নিয়ে সমস্যা। বিস্তারিত পড়ুন।

গেটের সামনে থেকে জবরদখল হটলেও টোটোতে সমস্যা বাড়ছে
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেন গেটের সামনের অংশ যানজট মুক্ত রাখতে সরানো হয়েছিল জবরদখল। পুলিশের নির্দেশ জবরদখলকারীরা সরলেও সেখানে এখন টোটোচালকরা কার্যত ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। ট্রাফিক পুলিশের তরফে ‘নো পার্কিং’ লেখা বোর্ড রাখা হলেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে টোটো দাঁড়িয়ে থাকছে। ফলে হাসপাতালের প্রবেশদ্বার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে।  

Advertisement

বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, গেটের সামনে টোটো সহ অন্যান্য যানবাহন থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী গাড়ি যাতায়াতে সমস্যা হয়। পুলিশ বিষয়টি দেখলে ভাল হয়। 
বাঁকুড়া সদর ট্রাফিকের এক আধিকারিক বলেন, বৈধ স্ট্যান্ড ছাড়া যত্রতত্র টোটো বা ই-রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। হাসপাতালের সামনে সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকে। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। 
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিস্তীর্ণ জায়গা রয়েছে। মেডিকেলের জায়গার একাংশে দীর্ঘদিন ধরেই জবরদখল হয়েছিল। মেডিকেলের লোকপুর ক্যাম্পাসে অনেকে বাড়িঘর করে বসবাস করছিলেন। গোবিন্দনগর ক্যাম্পাসেও জবরদখল হয়েছিল। তবে তা বর্তমানে অনেকটাই সরানো হয়েছে। গোবিন্দনগর হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের বাইরে বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার প্রধান রাস্তার ফুটপাতে পরপর দোকানপাট ছিল। আবার অনেকে ত্রিপল টাঙিয়ে জায়গা আগলে রেখেছিল। রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর পুলিশ সক্রিয় হয়। ফুটপাত, হাসপাতালের গেটের দু’পাসে ও সামনে বেআইনি জবরদখল থাকার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছিল। কিছুদিন আগে বাসের ধাক্কায় এক পথচারীর মৃত্যুও হয়। তারপর পুলিশ জবরদখলকারীদের সরে যেতে বলে। সেখানে অবশ্য অভিযান চালানোর আগেই জায়গা খালি হয়ে যায়। কিন্তু, লাভ কিছু হয়নি। জবরদখলকারীদের পরিবর্তে এখন টোটো চালকদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। 
গোবিন্দনগরের বাসিন্দা নির্মল সহিস, মায়া দাসমোদক বলেন, আমরা হাসপাতালের পাশে খাবারের দোকান করেছিলাম। পুলিশ নির্দেশ দেওয়ার পর উঠে গিয়েছি। কিন্তু, এখন সেখানে টোটো দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। টোটোচালকরা পুলিশের কথাও শুনছে না। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টোটোচালক বলেন, হাসপাতাল থেকে রোগীর পরিজনরা বাসস্ট্যান্ড, মাচানতলা ও রেল স্টেশনে যায়। তাদের জন্য আমরা গেটের সামনে অপেক্ষা করি। পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা মাঝেমধ্যে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে। তখন কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। তারা চলে গেলেই ফের আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়াই। এভাবেই চলছে। আমাদের কাছে যাত্রী ধরাই মূল কথা। যানজট যাতে না হয়, সেদিকেও অবশ্য খেয়াল রাখি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ