Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুজো আসতে চললেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার ডাক পাননি বহরমপুরের নৃত্য ও সংগীত শিল্পীরা, উদ্বিগ্ন

শরতের আকাশে কাশফুল ডানা মেলতে শুরু করেছে। বাতাসে ছড়াচ্ছে কাশফুলের রেণু। ভোরে শিউলিতলায় ফুল লুটোপুটি খাচ্ছে

দুর্গাপুজো আসতে চললেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার ডাক পাননি বহরমপুরের  নৃত্য ও সংগীত শিল্পীরা, উদ্বিগ্ন
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: শরতের আকাশে কাশফুল ডানা মেলতে শুরু করেছে। বাতাসে ছড়াচ্ছে কাশফুলের রেণু। ভোরে শিউলিতলায় ফুল লুটোপুটি খাচ্ছে। আর ক’দিন পরেই দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে। কিন্তু এখনও দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ডাক পাননি নৃত্য ও সংগীত শিল্পীরা। বাউল শিল্পীদের ঘরেও ডাক আসেনি বলেই তাঁদের দাবি। দোরগোড়ায় বাঙালির সেরা দুর্গোৎসব। এখনও অনুষ্ঠানের ডাক না আসায় শিল্পীদের মনে উদ্বেগ বাঁসা বাঁধতে শুরু করেছে। পেশাদার শিল্পীদের পাশাপাশি উৎসাহী অপেশাদার শিশু কিশোর, কিশোরীদেরও মন বিষন্নতায় ঢাকতে শুরু করেছে। শিল্পী এবং শিল্প সংস্থাদের দাবি, অন্য বছর ইতিমধ্যে তিন চার জায়গা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ডাক আসে। সময়ের অভাবে অনেক পুজো উদ্যোক্তাদের জবাব দিয়ে ফেরাতে হয়। এবার এখনও কোনো ডাক আসেনি। কেন তার কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা। শহরের বহু পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, মণ্ডপের বাঁশ ফেলেও তাঁরা কাজ শুরু করতে পারেননি। এবার পুজো কমিটিদের অনেক কিছু নিয়ম ইতিমধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য সরকারের কী কী বিধিনিষেধ আরোপ করে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সব কিছু দেখেই অনুষ্ঠান সাজানো হবে।
বাঙালির সেরা উৎসবকে বর্ণময় আলোকসজ্জা, মণ্ডপসজ্জা, সুদর্শন প্রতিমায় সাজিয়ে তুলতে উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতার আসরে নেমে পড়েন। দর্শক টানতে এর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। শহর এবং শহরের বাইরে থেকে কলকাতা, দিল্লির শিল্পীরা সেই অনুষ্ঠান মাতান। কোথাও রাত পর্যন্ত অক্রেস্টা, নৃত্যশিল্পীরা মঞ্চ কাঁপান। পুজোর বায়না ধরতে শিল্পীরা নতুন গানের সংগ্রহ নিয়ে দিনের পর দিন রেওয়াজ করেন। নৃত্যে বৈচিত্র আনতে কোরিওগ্রাফাররা নতুন আঙ্গিকের ‘কেমেস্ট্রি’ আনেন। সবই কার্যত চেনা ছকেই চলছিল। শুধু ডাকের অভাব। পুজোয় যেখানে এক একজন শিল্পী চার পাঁচটি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ডাক পান এবার তাঁদের বায়নার খাতায় এখনও কালির আঁচর পড়েনি।
বহরমপুরের এক নৃত্যশিল্প সংস্থার প্রশিক্ষক বলেন, গত বছর একদিনে দু’জায়গায় কাজ করেছি। এবার রিহার্সালও চলছে। কিন্তু বায়না না আসায় নৃত্যশিল্পীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। শহরের রানিবাগান এলাকার অর্পণ মণ্ডল উদীয়মান শিল্পীদের মধ্যে যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছেন। ২০২৬ সালের সর্বভারতীয় সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিষদের শাস্ত্রীয় সংগীত, নজরুল ও আধুনিক গানের তিনটি সেরা পদক তার ঝুলিতে এসেছে। একাধিক বেসরকারি চ্যানেলে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অর্পণের এবার মন খারপের পালা। এখনও কেউ ডাকেনি। সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া অর্পণ বলে, পুজোর অনুষ্ঠানে বহু মানুষের ভিড়ে গান গাইতে ভালো লাগে। সেইমতো গান বাছাই করে রেওয়াজও করছি। জানিনা কেউ ডাকবে কিনা? নিউটন বিশ্বাস, সৌরভ চক্রবর্তী, শুভেন্দু দাসদের মনের একই অবস্থা। বাউল শিল্পী বাবলু দাস বলেন, দুর্গাপুজোর মণ্ডপ থেকে ভালো সাম্মানিক মেলে। আমার দলের সাতজন সহশিল্পী ও বাদ্যকারের ভালো আয় হয়। এবার মনে হচ্ছে বছরটা অন্যভাবে যাবে। বহরমপুর গোরাবাজার এলাকার পুজো কমিটির সদস্য অচিন্ত্য বিশ্বাস বলেন, জায়গার অভাবে রাস্তায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ বাঁধা হতো। এবার রাস্তা ঘিরে মঞ্চ বাঁধতে পারবনা। ভাবনা চলছে। বিকল্প ব্যবস্থা হলেই শিল্পীদের কাছে যাব।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ