


সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: তাঁর হাত ধরেই আই লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল আইজল এফসি। তারপর কলকাতায় পা রেখেই ইস্ট বেঙ্গলকে সুপার কাপের ফাইনালে তোলেন খালিদ জামিল। প্রথম ভারতীয় কোচ হিসেবে আইএসএলে কোচিং করেছেন এই মুম্বইকর। আর এবার তাঁর প্রশিক্ষণে আইএসএলের সেমি-ফাইনালে উঠেছে জামশেদপুর এফসি। বৃহস্পতিবার প্রথম লেগে ঘরের মাঠে মোহন বাগান সুপার জায়ান্টের মুখোমুখি হবে খালিদ-ব্রিগেড। লড়াইটা কঠিন, তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তিনি। লিগ-শিল্ড চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ৪৮ ঘণ্টা আগে ‘বর্তমান’কে একাম্ত সাক্ষাৎকার দিলেন খালিদ জামিল।
প্রশ্ন: প্রথম ভারতীয় কোচ হিসেবে আইএসএলের সেমি-ফাইনালে ডাগ-আউটে দাঁড়াতে চলেছেন আপনি। এটা কতটা গর্বের?
খালিদ: এর পুরো কৃতিত্ব ফুটবলারদের। আমার কাজ শুধু ওদের মোটিভেট করা।
প্রশ্ন: চলতি মরশুমে একটা সময় বেশ কয়েকটি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ পেয়েছিল জামশেদপুর। সেই সময় ফুটবলারদের কীভাবে উদ্দীপ্ত করেছেন?
খালিদ: ওদের বলেছিলাম, স্বাভাবিক খেলা মেলে ধরতে। ম্যাচে হার-জিত থাকেই। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ছেলেরা তা করে দেখিয়েছে।
প্রশ্ন: কয়েক বছর আগে মরশুমের মাঝপথে নর্থইস্টের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তারপর দল ভালোই খেলছিল। তা সত্ত্বেও আপনাকে সরিয়ে বিদেশি কোচ নিয়োগ করা হয়। জামশেদপুর সেখানে মরশুমের শুরু থেকেই আপনার উপর ভরসা রাখে। এটাই কি আপনাকে ভালো ফল করতে সাহায্য করেছে?
খালিদ: জামশেদপুর কর্তারা যেভাবে আমার উপর ভরসা রেখেছেন, তার মর্যাদা রাখতে পেরে খুশি। এখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি। কর্তারা কোনওকিছুতেই নাক গলান না। আমিই শেষ কথা।
প্রশ্ন: মোহন বাগান ইতিমধ্যেই লিগ-শিল্ড জিতেছে। সেমি-ফাইনালের আগে ফুটবলারদের মধ্যে কি সেটা আত্মতুষ্টির সঞ্চার করতে পারে?
খালিদ: আমি তা মনে করি না। তাছাড়া ওদের দলে একাধিক ম্যাচ উইনার। কামিংস, পেত্রাতোস, ম্যাকলারেনরা নিজেদের দিনে বিপক্ষকে ছিঁড়ে খেতে পারে। কিন্তু আমরাও ছেড়ে কথা বলার বান্দা নই।
প্রশ্ন: অনেকেই বলছেন, জাতীয় দলের দায়িত্ব এবার আপনাকে দেওয়া হোক? প্রতিক্রিয়া কী?
খালিদ: আমি এখন এসব নিয়ে ভাবতে চাই না। আপাতত আমার লক্ষ্য, জামশেদপুরকে সাফল্য এনে দেওয়া। তারপর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার অনেক সময় পড়ে রয়েছে।