


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজব কাণ্ড পিজি হাসপাতালে! অ্যাডমিশন ফর্ম, ভিজিটিং কার্ড ইস্যু হওয়ার পরও একাধিক রোগী ফেরত পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠল। ফলে বহু রোগীকে পিজি’র ট্রমা সেন্টারের ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, এমনটা হওয়ার কথা নয়। হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
কালীঘাটের বাসিন্দা স্বপন শীল ও ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা ফাহিম দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। তাঁদের পরিবারের কমবেশি এমনই অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে ট্রমা সেন্টার ও ইমার্জেন্সিতে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। কালীঘাটের স্বপনবাবুর আত্মীয় স্বয়ম্ভু মজুমদার জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাড়ির কাছে স্বপনবাবু হাঁটছিলেন। তখন এক অল্পবয়সি বাইকচালক তাঁকে ধাক্কা মারে। তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নীচের হাড় তিন টুকরো হয়ে যায়। পিজি’র ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কাগজে ‘অ্যাডভাইসড টু অ্যাডমিশন’ লিখে বলা হয়, ‘এখন বাড়ি নিয়ে চলে যান। দু’সপ্তাহ পরে আসুন। তখন অপারেশন হবে। আর আপনার যেহেতু পুলিশ কেসের ব্যাপার আছে, জেনারেল ইমার্জেন্সিতে যান একবার।’ সেখানে গেলে বলা হয়, ‘আপনার রোগীকে তো অ্যাডমিশন করাতেই বলা হয়েছে।’ তারপর অ্যাডমিশন ফর্ম, ভিজিটিং কার্ড ইস্যু করা হয়। সেগুলি নিয়ে ট্রমা সেন্টারে ফিরে চারতলার ওয়ার্ডে নিয়ে যান রোগীকে। সেখান তাঁদের বলা হয়, ‘একবার একতলা থেকে বেড নম্বরটা নিয়ে আসুন।’ এরপর স্বপনবাবুকে ওয়ার্ডে রেখে একতলায় গেলে ঘটে আশ্চর্য ঘটনা! এক ব্যক্তি বলেন, ‘আপনি কাগজপত্র নিয়ে একবার জেনারেল ইমার্জেন্সিতে চলুন।’ সেখানে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি অ্যাডমিশন ফর্ম এবং আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ বাদে অ্যাডমিশন ফর্ম ছাড়া অন্য কাগজপত্রগুলি ফেরত দেন। বলেন, ‘বেড নেই। ভর্তি হবে না।’ স্বয়ম্ভুবাবু বলেন, ‘এই করতে করতে দেখি ভোর হয়ে গিয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করি। বলি, আপনি অ্যাডমিশন ফর্ম নিয়ে নিলেন কেন? শেষমেশ সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানানো হলে ১২ ঘণ্টারও বেশি ওভাবে পড়ে থাকার পর এদিন দুপুরে রোগী ভর্তি হতে পারেন। আমরা গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।’ পিজি সূত্রে খবর, ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা ফাহিম নামে এক যুবক ফলস সিলিংয়ের কাজ করতে গিয়ে পড়ে যান। মারাত্মক চোট পান তিনি। তাঁকে নিয়ে ট্রমা সেন্টারে এসে একই অভিজ্ঞতার শিকার হন তাঁর মা। অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।