Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬

কড়া হতে চাইছেন না বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরাও, ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে মন্তব্যে নারাজ এনডিএ’র শরিকরাও

বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরা ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিরুদ্ধে নীরব। এনডিএ’র শরিকদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ। বিস্তারিত পড়ুন।

কড়া হতে চাইছেন না বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরাও, ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে মন্তব্যে নারাজ এনডিএ’র শরিকরাও
  • ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রাচীন শাস্ত্রের আপ্তবাক্য হল উৎসবে, ব্যসনে, দুর্ভিক্ষে, রাষ্ট্রবিপ্লবে, রাজদ্বারে কিংবা শ্মশান— সর্বত্র যে পাশে থাকবে, সেই প্রকৃত বন্ধু। মোদি সরকার তথা বিজেপি ক্রমেই লক্ষ্য করছে উৎসব বা রাজদ্বারে বেশ জোরালোভাবে যে সঙ্গীরা নিজেদের উপস্থিতি জাহির করে সব সুখ ভোগ করেছে, তারা এই রাষ্ট্র বিপ্লবের সময় সরকার থেকে দূরে। এবং  নীরব। নাম কা ওয়াস্তে সরকার চেষ্টা করছে, আলোচনা দরকার, আশা করা যায় সমাধান হবে, ইত্যাদি কথা বলে দায় এড়াচ্ছে তারা। চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম থেকে নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল। উপেন্দ্র কুশওয়া, জিতন রাম মাঝি, চিরাগ পাসোয়ান, একনাথ সিন্ধে। এবং সর্বেশেষ বন্ধু এনসিপিআই। ছাত্রযুব সমাজের আন্দোলনের বিরুদ্ধে কেউ একটিও কথা বলছে না। ছাত্রদের দাবি কিংবা ধরনার নিন্দা করেও কোনও মন্তব্য করছে না কেউ। বরং ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতোই কমবেশি প্রত্যেক এনডিএ জোটশরিকই ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতির বার্তাই দিচ্ছে। তেলুগু দেশম সূত্রের খবর, চন্দ্রবাবু নাইডু ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিরুদ্ধ অবস্থান নিতে দলকে নিষেধ করেছেন। সরকারের বিরুদ্ধেও যেমন কোনো মন্তব্য নয়, তেমনই যুবসমাজের কাছে ভুল বার্তা যায়, এরকম বিবৃতি থেকে বিরত থাকতে চাইছে তেলুগু দেশম। নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার বলেছেন, আমাদের পূর্ণাঙ্গ সহানুভূতি রয়েছে ছাত্র-যুবদের প্রতি। তবে তাদের সতর্ক থাকা উচিত আন্দোলন যেন অপ্রীতিকর দিকে চলে না যায়। আলোচনা চলছে। একটা কোনও সমাধান সূত্র নিশ্চয়ই আসবে। এদিকে শুধু‌ই কি জোটশরিক? বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি ও সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে রাজ্যগুলিতে বিজেপির সরকার, সেখানে একইভাবে আন্দোলন চললেও, দিল্লি পুলিশের মতো দমনপীড়ন করতে রাজি নয় যোগী আদিত্যনাথ থেকে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ কেউই। দেরাদুন থেকে জেহানাবাদ। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরা ছাত্র-যুব আন্দোলনকে বাধা দেননি। বরং পুলিশ ছিল কমবেশি সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত। উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতে আগামী বছর বিধানসভা ভোট। সুতরাং মাত্র কিছুমাস আগে ছাত্র-যুব আন্দোলনে বাড়াবাড়ি রকমের দমনপীড়ন, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের মতো ঝুঁকি নিতে রাজি নন ওই মুখ্যমন্ত্রীরা। বস্তুত ছাত্র-যুবদের রোষানলে পড়তে রাজি নন কোনো মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই এই সব রাজ্যে বিজেপি কংগ্রেস ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে। কিন্তু ছাত্র যুব আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্যই করছেন না তাঁরা। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ