নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ১১ দিন আগে রাশিয়া থেকে মৃত্যুর খবর এসেছে। সেদেশের সেনাবাহিনীর এক সদস্য ফোনে জানিয়েছেন, আলিপুরদুয়ারের শালকুমারহাটের ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায়। কিন্তু ইন্দ্রজিতের দেহ এখনও পর্যন্ত চোখে দেখতে পায়নি পরিবার। প্রকৃত কী ঘটনা হয়েছে সরকারিভাবেও কিছু জানানো হয়নি তাদের। ফলে ধন্দ কাটেনি ২৫ বছরের ওই যুবকের বাড়ির লোকজনের। জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ইন্দ্রজিতের বাবা প্রদীপ বিশ্বাস। বিদেশমন্ত্রক ও দূতাবাসের মাধ্যমে খবর নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
কিন্তু দু’সপ্তাহ হতে চলল, এখনও সরকারিভাবে কিছু জানতে পারেনি পরিবার। ক্রমেই বাড়ছে ধোঁয়াশা। কারণ, গগন নামে পাঞ্জাবের যে যুবক (রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য) ফোনে ইন্দ্রজিতের মৃত্যুর খবর দিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, ইন্দ্রজিতের মোবাইলও বন্ধ। ফলে এই পরিস্থিতিতে কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছে না আলিপুরদুয়ারের ওই যুবকের পরিবার। বেঁচে আছেন ইন্দ্রজিৎ, এই বিশ্বাসে পারলৌকিক কাজ স্থগিত রেখেছেন তাঁর স্বজনরা।
এদিকে, নাতির (ইন্দ্রজিৎ) বিপর্যয়ের খবর পেয়ে মৃত্যু হওয়া নীলরতন বিশ্বাসের আজ, বৃহস্পতিবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। ইন্দ্রজিতের কাকা অজিত বিশ্বাস বলেন, প্লাস্টিকে মোড়া কিছু একটার (মৃতদেহের মতো) ছবি পাঠানো হয়। কিন্তু ছবিতে আমার ভাইপোর মুখ দেখা যাচ্ছে না। রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। পরিবারের বক্তব্য, ছেলের যদি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মৃত্যু হয়ে থাকবে, রাশিয়া সেনাবাহিনীর তরফে আমাদের সরকারিভাবে কিছু জানানো হল না কেন?