গুয়াহাটি: পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু গুয়াহাটির হোটেলে ৫ জনকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের। অসম পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ২০২৪ সালের একটি ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি মামলায় ঘনকান্তকে গ্রেপ্তার করেছিল শিবসাগর পুলিশ। তাকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এসএসপি পাপোরি চেতিয়া বলেছেন, ‘ঘনকান্ত বন্দুক চালাতে ওস্তাদ ছিল। আরও নানারকম অস্ত্র ব্যবহার করতে জানত। ভোর তিনটে দশ নাগাদ শৌচকর্মের জন্য সে গাড়ি থেকে নামতে চায়। তারপরেই এক পুলিশ অফিসারের বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে গুরুতর আহত হন ওই অফিসার। তাঁকে বাঁচাতে শিবসাগর থানার অফিসার-ইন-চার্জ ঘনকান্তকে গুলি করেন।’ যদিও এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চেয়েছিল ঘনকান্ত। সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গুলিবিদ্ধ ঘনকান্তকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের হৃদযন্ত্রের কাছে গুলি লেগেছে। অন্যদিকে আহত অফিসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস্তাধস্তিতে ওই আধিকারিকের পিস্তল থেকে তিনটি গুলি চলে। তবে তাতে কেউ আহত হয়নি।
গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির হোটেল বিলাসে গুলি চালিয়ে ৫ জনকে হত্যা করে ঘনকান্ত। আহত হন আরও একজন। সেই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হেপাজতে থাকাকালে আদালতে এনকাউন্টারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল ঘনকান্ত। এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এরইমধ্যে মঙ্গলবার ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল শিবসাগর পুলিশ।
এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা দেবব্রত সাইকিয়ার অভিযোগ, ‘হেপাজতে থাকাকালীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন ঘনকান্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে সেই অনুমতি দেয়নি। ঘনকান্তের মৃত্যুর পর অনেকগুলি বিষয় ধামাচাপা পড়ে গেল।’ রাজৌর দলের বিধায়ক অখিল গগৈ বলেছেন, ‘ঘনকান্ত দুষ্কৃতী ছিল। আমরা ওকে জঙ্গিও বলতে পারি। ঘনকান্তের মৃত্যুতে একটুও ব্যথিত নই। তবে এনকাউন্টারকে কোনোভাবেই সমর্থন করি না। তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ঘনকান্তের শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।’
এই এনকাউন্টারকে ‘ভগবানের ন্যায়’ বলে বর্ণনা করেছে হোটেলে গুলিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্য ভূদেব ও হেলেনা ভারলি বলেন, ‘ওঁদের আত্মা এবার শান্তি পাবে। মৃতদের পরিবারের সদস্য হিসাবে আমরাও শান্তি পেলাম।’



