সংবাদদাতা, বনগাঁ: কালুপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ও তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সরকারি ত্রিপল উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বনগাঁয়। এই ঘটনায় তৃণমূল সদস্য শংকর মণ্ডল ও তাঁর শ্যালক নারায়ণ মণ্ডলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার বনগাঁ আদালত ধৃতদের তিনদিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ থানার উত্তর কালুপুরের বাসিন্দা শংকর মণ্ডলের বাড়িতে শনিবার রাতে কিছু বাসিন্দা চড়াও হয়। সেখানে তল্লাশি করতেই মেলে সরকারি ত্রিপল ও শাড়িসহ বেশকিছু জিনিস। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। এরই পাশাপাশি, ওই পঞ্চায়েত সদস্যের শ্যালক নারায়ণ মণ্ডলের বাড়িতেও হানা দেওয়া হয়। বেশ কিছু সরকারি ত্রিপল উদ্ধার হয় সেখান থেকেও। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে পুলিশ যায়। শংকর মণ্ডল ও নারায়ণ মণ্ডলকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেপ্তারও করা হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় শংকর একাধিক বেআইনি কাজে যুক্ত ছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি জিনিস আত্মসাৎ করেন তিনি। অভিযোগ, অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য এগুলি বিক্রি করতেন।
অবশ্য শংকর মণ্ডলের দাবি, ‘গরিব মানুষকে দেওয়ার জন্যই বনগাঁ পুরসভার কাউন্সিলার কৃষ্ণা রায়ের কাছে কিছু ত্রিপল চেয়েছিলাম। তিনিই কিছু ত্রিপল দিয়েছিলেন আমাকে।’
যদিও তাঁকে ত্রিপল দেওয়ার কথা পরিষ্কার অস্বীকার করেছেন কৃষ্ণাদেবী। তিনি বলেন, ‘শংকর মণ্ডলকে চিনিই না। জানি না, কেন আমার নাম নিয়েছেন তিনি!’
বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘রাজ্যে এতদিন কাটমানির সরকার ছিল। তৃণমূল নেতারা সরকারি জিনিস বিক্রি করেছেন, নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন। আজ একে একে সবই প্রকাশ্যে আসছে।’