তাঁর গোঁফ সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত। সিনেমার মুখোশে পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর মুখাবয়ব। এহেন মানুষটির পরিচয়ের জন্য তাঁর পদবিটাই যথেষ্ট—দালি। সাররিয়ালিজমকে অন্য স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন সালভাদর দালি। ভাস্কর্য থেকে আঁকা—সব ক্ষেত্রেই ছিল বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। তবে কাজের পাশাপাশি স্প্যানিশ শিল্পীর জীবনও ছিল মজায় ভরপুর। একবার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে হাতি চেয়েছিলেন তিনি। এমন অদ্ভুত আবদারের কারণ কী? আজ সেটাই জেনে নেওয়া যাক। ১৯৬৭ সাল। এয়ার ইন্ডিয়া তখন ভারতের অন্যতম বিমান সংস্থা। তাদের শিল্পকলার সংগ্ৰহ ছিল দেখার মতো। বিশ্বের তাবড় তাবড় শিল্পীদের কাজ ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে। সেই সূত্রেই মাথায় এল সালভাদর দালির নাম। সঙ্গে সঙ্গে নিউ ইয়র্কে পৌঁছে গেল এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি দল। তখন সেখানেই ছিলেন দালি। বিমান সংস্থার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলেন শিল্পী। তৈরি করলেন একটি সুন্দর অ্যাশট্রে। দালির কাজ। তাই অ্যাশট্রের প্রত্যেক অঙ্গে সাররিয়ালিজমের ছোঁয়া স্পষ্ট। মূল অ্যাশট্রেটি সাদা শঙ্খ বা ঝিনুকের মতো। তাকে ঘিরে রয়েছে একটি নীল সাপ। আর স্ট্যান্ড হিসেবে একসঙ্গে রয়েছে হাতি আর হাঁস। দালির ভাষায় ‘ডাবল ইমেজ’। প্রথমে দেখে মনে হতে পারে হাতির পা আর শুঁড়। দ্বিতীয়বার দেখলে সেই শুঁড় যেন হয়ে ওঠে রাজহাঁসের গলা। এরকম প্রায় ৫০০ অ্যাশট্রে এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য নির্মাণ করেছিলেন দালি। টাকা নয়। এই কাজের জন্য একটি শিশু হাতি চেয়েছিলেন দালি। শিল্পীর কথামতো বেঙ্গালুরুর চিড়িয়াখানা থেকে স্পেনে পাঠানো হয় বছর দুয়েকের একটি হাতি। হস্তিশাবক সেখানে পৌঁছতেই উৎসবে মেতে উঠেছিল দালির শহর। এই উপলক্ষ্যে তিনদিন ছুটি পর্যন্ত ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। ভারত থেকে আসা এই ছোট হাতির পিঠে চড়েই আল্পস পর্বতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন দালি। সেটা অবশ্য পূর্ণ হয়নি। ১৯৭১ সালে বার্সেলোনার চিড়িয়াখানায় থাকতে শুরু করে দালির হাতি। ১১ মে, রবিবার ছিল শিল্পীর জন্মদিন।



