Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের দুই পার্টি অফিসে কাটা হল লাইন, কোচবিহার ও দিনহাটায় দু’ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

কোচবিহার জেলার দু’টি তৃণমূল পার্টি অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। একটি কোচবিহার শহরের নিউটাউনে দলের জেলা পার্টি অফিস।

তৃণমূলের দুই পার্টি অফিসে কাটা হল লাইন, কোচবিহার ও দিনহাটায় দু’ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহার জেলার দু’টি তৃণমূল পার্টি অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। একটি কোচবিহার শহরের নিউটাউনে দলের জেলা পার্টি অফিস। অন্যটি, দিনহাটার টিএমসি কার্যালয়। এক-দুই হাজার টাকা নয়, দু’টি পার্টি অফিসের বকেয়া বিলের পরিমাণ আড়াই লাখ টাকার বেশি। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন বারবার তাগাদা দিয়েও বকেয়া আদায় করতে পারেনি ডব্লুবিএসইডিসিএল। এবার রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তন হতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল বিদ্যুৎ দপ্তর। পাহাড় সমান বিল বকেয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। 

Advertisement

নিউটাউনে জেলা পার্টি অফিসের বিদ্যুৎ বিল চার বছর ধরে দেওয়া হয় না। বকেয়া সেই টাকার পরিমাণ প্রায় দু’লক্ষ টাকা। বছর চারেক আগে দলীয় কার্যালয়টি জেলা তৃণমূল সভাপতির উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল। তারপর থেকেই বিল জমা পড়েনি বিদ্যুৎ দপ্তরে। অন্যদিকে, দিনহাটার পার্টি অফিসের বকেয়া বিলের অঙ্ক প্রায় ৬০ হাজার টাকা। রবিবার অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, জেলা অফিসে অনেক টাকা বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। আমরা বিল মিটিয়ে পুনরায় সংযোগ নেব। তবে দিনহাটার পার্টি অফিসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কথা জানা নেই। এদিকে, আফশোসের সুরে তিনি বলেন, পার্টি অফিস চালানোর জন্য জেলার বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্ব এক টাকাও দেন না। সব আমাকেই চালাতেই হয়। 
ডব্লুবিএসইডিসিএলের কোচবিহার রিজিওনাল অফিসের এক শীর্ষ অধিকারিক জানিয়েছেন, তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা বিদ্যুতের বিল চেয়েও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে কয়েকদিন আগে ওই অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে আসা হয়েছে। দিনহাটার ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ ছিল।
রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকতেই নিউটাউনে কোচবিহার-দিনহাটা রাজ্য সড়কের ফুটপাত ঘেঁষে তৈরি করা হয় পার্টি অফিসের বর্ধিত অংশ। সেই সময়েও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে খবর করেছিল ‘বর্তমান’। কিন্তু খবর প্রকাশের পরেও তা অটুট ছিল। রাজ্যে দল ক্ষমতাচ্যুত হতেই জেলা কার্যালয়ের সামনে ফুটপাত দখল করে তৈরি করা অংশটি তৃণমূল নিজেরাই সরিয়ে নেয়। এবার কাটা হল বিদ্যুতের সংযোগ। অফিসটি কর্পোরেট ধাঁচে করা হয়েছে। দামি দামি আসবাবপত্র, কনফারেন্স রুম, চেম্বারে চেম্বারে সোফা, এসি বসিয়ে বিলাসবহুল করে তোলা হয়েছে। এখন সেই অফিসে নেই বিদ্যুৎ! 
অন্যদিকে,বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া থাকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন বিদ্যুতের বিল বকেয়া রেখেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব? এমনকী খোদ প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী (প্রাক্তন) উদয়ন গুহের খাসতালুক বলে প্রচার পাওয়া দিনহাটার পার্টি অফিসেরও বিল বকেয়া! যদিও ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পরেই দিনহাটা ছেড়েছেন উদয়ন। তাঁর ফোনও বন্ধ এখন। 

সম্পর্কিত সংবাদ