


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসার পর আশায় বুক বাঁধছেন ১৫ পুরসভার কয়েক লক্ষ নাগরিক। তাঁদের আশা, এবার নিশ্চয়ই দীর্ঘদিন আটকে থাকা পুরভোট করানো হবে। শীঘ্রই ঘোষিত হবে পুরভোটের দিনক্ষণ। সূত্রের খবর, তাঁদের সেই আশা পূরণ হতে চলেছে! ১২ জেলার ১৫ পুরসভায় বছরের পর বছর নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। হাওড়া পুরসভায় ভোট হয়নি ১৩ বছর। কাউন্সিলার না থাকায় মানুষের বিস্তর দুর্ভোগের কথা মানছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি জানিয়েছেন, এই পুরসভাগুলিতে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনই নির্দিষ্ট না হলেও সরকার ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘এ ব্যাপারে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।’
এই ১৫টি পুরসভায় ভোট করানোর দাবি ক্রমশ জোরদার হলেও কোনো ‘অজ্ঞাত’ কারণে পূর্বতন সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। পুরভোট করানোর দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। একটি মামলার প্রেক্ষিতে তারা জানিয়ে দিয়েছিল, পুরসভাগুলির ভোট করাতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেত মেলেনি। উলটে রাজীব সিনহার পর গত সেপ্টেম্বর থেকে ফাঁকা পড়ে রয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ। নীলাঞ্জন শান্ডিল্যর পর কমিশনের সচিবের পদেও কেউ আসেননি। নেই যুগ্ম সচিবও। বিজেপি পরিচালিত সরকার এসে কমিশনের এই শূন্যপদগুলি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে দ্রুত পুরভোট নিয়ে আশার আলো দেখছেন ভুক্তভোগী নাগরিক।
কোন কোন পুরসভায় দীর্ঘদিন ভোট হয়নি? হাওড়ার পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে দুর্গাপুরের মতো বড়ো পুরসভা। এছাড়াও রয়েছে মুর্শিদাবাদের ডোমকল, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুজালি, দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ও মিরিক, কালিম্পং জেলার কালিম্পং পুরসভা, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া, নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, হাওড়ার বালি এবং জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভা। এর মধ্যে অধিকাংশ পুরসভায় শেষবার ভোট হয়েছে ২০১৭ সালে। কয়েকটিতে শেষবার পুরভোট হয়েছে ২০১৫-তে। আপাতত অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বসিয়ে কাজ চলছে। বাকি ১১২টি পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালের গোড়ায়। আর কলকাতা পুরসভার ভোট হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। তাই এই ১৫টি পুরসভার সঙ্গে কলকাতা পুরসভার ভোট করানোর সম্ভাবনা নিয়েও চর্চ শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে।
এদিকে, চলতি বছরে বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে গয়েশপুর, কৃষ্ণনগর, চাকদহ, জঙ্গিপুরের মতো সাতটি পুরসভার নির্বাচিত পুরবোর্ড। ফলে এই সাত পুরসভায়ও বর্তমানে কোনো নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এই পুরসভাগুলিতে তফসিলি জাতি, উপজাতি ও মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ড চিহ্নিতকরণের কাজ হয়নি। এই প্রক্রিয়া না সম্পন্ন হলে পুরভোট করানো যায় না। প্রসঙ্গত, ওই ১৫টি পুরসভায় এই প্রক্রিয়া হয়ে রয়েছে আগে থেকে।