


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত রাজ্যে। প্রতিবাদ জানাতে বাংলায় এসআইআর আতঙ্কে মৃত কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লি গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে বীরভূম জেলার মৃত কয়েকজনের পরিবারের সদস্যও রয়েছেন। এই আবহে ফের জেলায় এসআইআর আতঙ্কে ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম অঞ্জলি মণ্ডল(৬৫)। তাঁর বাড়ি সিউড়ি পুরসভার ২১নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কেন্দুয়া দক্ষিণপাড়ায়। এসআইআরের শুনানি নিয়ে আতঙ্কের কারণেই রবিবার সকালে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই তোলপাড় শুরু হয় সিউড়িতে। মৃতের ছেলে নির্মল মণ্ডল বলেন, মা এমনিতেই অসুস্থ ছিল। জানুয়ারির শুরুতে মায়ের নামে শুনানির নোটিস আসে।
৮জানুয়ারি সিউড়ি-২ ব্লক অফিসে শুনানির জন্য সশরীরে হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস এসেছিল। তারপর থেকে মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। কমিশন সূত্রের খবর, বৃদ্ধা ‘নো ম্যাপিং’ তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২০০২সালের এসআইআর তালিকায় নিজের বা নিকট আত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল করাতে পারেননি তিনি। সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। বৃদ্ধা অসুস্থ থাকায় বাড়িতে এসে শুনানির জন্য তাঁর পরিবার সিউড়ি-২ ব্লক কার্যালয়ে আবেদন জানান। কিন্তু সেই আবেদনের পর তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও কেউ বাড়ি এসে শুনানি করেননি বলে অভিযোগ। কবে শুনানি হবে তাও কেউ জানাতে পারেননি। ওই বৃদ্ধা ব্যাপক আতঙ্কে ভুগছিলেন বলে জানান তাঁর ছেলে নির্মল। সেই আতঙ্ক থেকেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। ওই বুথের বিএলও সুমন্ত গোস্বামী বলেন, ওই বৃদ্ধা ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন। সেকারণে শুনানির জন্য ব্লক অফিসে যেতে পারেননি। তাঁর বাড়িতে যাতে শুনানি হয় সেজন্য ব্লক অফিসে আবেদনও করা হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই শুনানি হত। কিন্তু তারমধ্যেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পাই। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, যাঁরা বাড়িতে শুনানির জন্য আবেদন করেছিলেন তাঁদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ব্লক অফিসে শুনানির চাপের জন্য তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। শীঘ্রই সকলের শুনানি সম্পন্ন হবে। তবে, এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দিকেই আঙুল তুলছে তৃণমূল। তাদের দাবি, তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও অফিসাররা শুনানির জন্য বৃদ্ধার বাড়িতে যাননি। তাঁদের উপর যেভাবে কাজের চাপ বাড়ানো হচ্ছে তাতে তাঁরাও নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। নির্বাচন কমিশন পরিকাঠামো না তৈরি করেই শুনানির কাজ শুরু করেছে। তারজন্যই মানুষকে এত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর দায় কমিশনকেই নিতে হবে। এদিন মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বিধায়ক বলেন, এসআইআর এর নামে মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। তারজন্যই মৃত্যু বাড়ছে। বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে।