Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রৌঢ়াকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা! তোলপাড় গোপীবল্লভপুর

গোপীবল্লভপুরে প্রৌঢ়াকে গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত রৌণককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিস্তারিত পড়ুন।

প্রৌঢ়াকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা! তোলপাড় গোপীবল্লভপুর
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বারুইপুর কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গোপীবল্লভপুর -২ ব্লকের বেলিয়াবেড়া। এক প্রৌঢ়াকে গাড়িতে তুলে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। রবিবার দুপুরে বেলিয়াবেড়া থানার যুগডিহা এলাকার বাহারুনা জঙ্গলে ঘটনাটি ঘটে।  বর্তমানে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নির্যাতিতা প্রৌঢ়া চিকিৎসাধীন। দেহের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ রবিবারই স্থানীয়  যুবক রৌণক পান্ডাকে গ্ৰেপ্তার করে।‌ সোমবার জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতকে চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনাটি সামনে আসতেই তোলপাড় গোটা জেলা। নিন্দার ঝড় বইছে জঙ্গলমহলজুড়ে। ঝাড়গ্রামের পুলিস সুপার মানব স্রিংলা এদিন বলেন, ‘থানায় অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।’ 

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা প্রৌঢ়ের মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে প্রৌঢ়ার শরীরের ৩৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। ডান হাত, বুকের ডান দিক ও তলপেট সম্পূর্ণ দগ্ধ। তাঁর দেহে কীভাবে আগুন ধরানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জঙ্গলে দীর্ঘক্ষণ প্রৌঢ়া অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর জঙ্গল থেকে বের হয়ে হেঁটে যুগডিহা মোড় এলাকায় আসেন। কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়াররা তাঁকে  দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গেই প্রৌঢ়াকে তপসিয়া গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁরা। রাতে অবস্থার অবনতি হলে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আপাতত তিনি মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। 
প্রৌঢ়ার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে না। তার জেরে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোনো বার্ন ইউনিট নেই। সেই কারণেই অগ্নিদগ্ধ ওই রোগীর চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেই পরিবারের দাবি। 
এদিন প্রৌঢ়া হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলেন, ‘সেদিন  ফেকো ঘাটের বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তায় চারচাকার একটি গাড়ি এসে থামে। গাড়ির ভিতর দু’জন পঁচিশ-তিরিশ বছরের ছেলে ছিল। তারমধ্যে একজন আমাদের গ্ৰামের। অপরজন অপরিচিত। আমাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে জঙ্গলে নিয়ে যায় ওরা। সেখানেই আমাকে ধর্ষণ করা হয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সামান্য জ্ঞান ফিরতে বুঝতে পারি শরীরে ভীষণ জ্বালা করছে। কোনওরকমে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে রাস্তার মোড়ে আসি। পুলিশ দেখতে পেয়ে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। আমাকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল। যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই।’ তবে মহিলা বলতে পারেননি একজন যুবক নাকি দু’জন যুবক তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছে। ধৃত রৌণককে জেরা করে পুলিশ বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাইছে।  
প্রৌঢ়ার মেয়ে এদিন বলেন, ‘বেলিয়াবেড়া থানা এলাকাতেই আমার শ্বশুরবাড়ি। রবিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ সিভিক ভলান্টিয়াররা মা’কে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তপসিয়া গ্ৰামীণ হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। মা’কে যারা এভাবে জ্যান্ত পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদেরও পোড়ানো হোক।’ স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘মহিলার স্বামী মারা গিয়েছেন। ভূবনেশ্বরে আয়ার কাজ করেন। কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছেন। এক ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে থাকে। অন্য ছেলেটি  বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। অভিযুক্ত ছেলেটির বাড়িও আমাদের গ্ৰামে। ছেলেটির বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। আমরা ওর কঠোর শাস্তির দাবি করছি। ঝাড়গ্রামের ননীবালা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অরুন্ধতী সেন বলেন, ‘অত্যন্ত নিন্দাজনক ঘটনা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ