Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বৃদ্ধার, পুজোর প্রদীপ থেকে অগ্নিকাণ্ড হাওড়ার আবাসনে!

কলকাতা ও তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাওড়ার আবাসনে আগুন লেগে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার।

পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বৃদ্ধার, পুজোর প্রদীপ থেকে অগ্নিকাণ্ড হাওড়ার আবাসনে!
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কলকাতা ও তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাওড়ার আবাসনে আগুন লেগে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। বুধবার দুপুরে ডোমজুড়ের মহিয়াড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমবাগান এলাকায় উত্তরায়ণ নামে একটি পাঁচতলা আবাসনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। মুহূর্তে ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আবাসন। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন বাসিন্দারা। আগুনের মধ্যে বন্ধ ফ্ল্যাটে আটকে পড়ে মৃত্যু হয় গোপা মুখোপাধ্যায় (৭০) নামের এক বৃদ্ধার। তাঁর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ১টা নাগাদ ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখেন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় ক্লাবের যুবকরা। তাঁদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান দমকলকর্মীরা। আবাসনের ভিতরে আটকে পড়া প্রায় ১২ জনকে পাঁজাকোলা করে সিঁড়ি দিয়ে একে একে নামিয়ে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও বৃদ্ধার সংখ্যাই বেশি। ধোঁয়ায় বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে একে একে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে চলে আসেন। জানা গিয়েছে, ছেলে অর্ক মুখোপাধ্যায় ও বউমার সঙ্গে তিনতলার ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন গোপাদেবী। এদিন সকালে ছেলে অফিসে এবং বউমা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ায় ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন বৃদ্ধা। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের অনুমান, রান্নাঘর থেকে অথবা পুজোর প্রদীপ থেকে আগুন ছড়িয়ে থাকতে পারে। হাওড়ার ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার রাজা ভট্টাচার্য বলেন, ‘আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আগুন লাগার কারণ জানা যাবে।’
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, আবাসনে অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী রয়েছে ঠিকই, কিন্তু কখনও তা ব্যবহার করা হয়নি। এদিন ব্যবহার করতে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলি অকেজো। দমকল সূত্রে খবর, আবাসনে উপযুক্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি, আপৎকালীন দরজাও নেই। একটিমাত্র সিঁড়ি থাকলেও সেখানে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ২২টি ফ্ল্যাটের এই আবাসনটি আপাতত তিনদিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বাসিন্দাদের অন্যত্র থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও করা হবে। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি (সাউথ) গণেশ বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় যুবকদের তৎপরতায় বড়ো বিপদ এড়ানো গিয়েছে। তবে একজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ